জাতীয়
শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঈদের আগেই পরিশোধের নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, দেশের সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস ঈদের ছুটির আগেই পরিশোধ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করা যাবে না।
শুক্রবার ঢাকার বেইলি রোডে মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার উদ্দেশ্য ছিল আরএমজি ও নন-আরএমজি সেক্টরে শ্রম অসন্তোষ নিরসনের করণীয় নির্ধারণ করা।
মন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে প্রদান করা হবে। সংসদ সদস্যরা কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া, ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের জটিলতা দ্রুত সমাধান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রমমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রমিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজিত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা শ্রমিকনেতাদের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন। পলাতক মালিকদের তালিকা তৈরি করে এসব কারখানায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
সবশেষে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সবসময় শ্রমিকদের সহায়তায় প্রস্তুত এবং শ্রমিকস্বার্থ রক্ষায় পাশে থাকবেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন জানান, সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু করবে এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করবে।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২,১২৭টি কারখানার মধ্যে ১,৯৬৪টি ফেব্রুয়ারির বেতন এবং ১,৫৩৫টি ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ৫১২টি ফেব্রুয়ারির বেতন এবং ৬০৪টি ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, আপৎকালীন ফান্ডের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান সম্ভব হবে।
সভায় ঢাকা ও গাজীপুরের সংসদ সদস্য ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








