জাতীয়

জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষা করে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ১১০টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার ঘটনাকে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।


তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর সংসদীয় ইতিহাসে এক অধিবেশনে এত বিপুল পরিমাণ বিল পাস বা অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার নজির নেই।’


আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাসের বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাসের প্রেক্ষাপট ও সরকারের সদিচ্ছা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের একটি সদিচ্ছার ব্যাখ্যা আমি ছোট্ট করে দিতে চাই। আমাদের বাধ্যবাধকতা হলো— সকল বিল আইনে পরিণত করি অথবা ল্যাপস করি, যাই কিছু করি না কেন— তার সময় হলো ৩০ দিন। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই ৩০ দিনের বাধ্যবাধকতা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘১২ মার্চ পার্লামেন্ট বসেছে এবং সেদিনই আমরা সকল আইনগুলো উপস্থাপন করেছি। কিন্তু ১৩ ও ১৪ মার্চ শুক্র ও শনিবার হওয়ায় আমরা কাজ করতে পারিনি। এরপর শবে কদর ও ঈদের ছুটির কারণে ১৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সংসদ বন্ধ ছিল। ফলে প্রথম ১৫ দিন আমরা মূলত কোনো কাজই করতে পারিনি।’


তিনি জানান, এই সীমিত সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অধিবেশনের প্রথম দিনই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যরা ঈদের ছুটির মধ্যেও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধে একজন নিরপেক্ষ আইন বিশেষজ্ঞকে কমিটির সাথে যুক্ত করা হয়েছিল।


সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিলগুলো সম্পন্ন করতে আমি নিজে একেবারেই নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। এত বেশি অধ্যাদেশকে বিল আকারে পাসের কাজ স্বাধীনতার পরে আর কখনো হয়নি।’


তিনি আরও জানান, বিশেষ কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের পর গত ২ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। সেই প্রতিবেদনের আলোকেই ১১০টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীলতা ও সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধারই বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।


সম্পর্কিত খবর