জাতীয়

অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

অপরিশোধিত তেলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

অপরিশোধিত তেলের অভাবে চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।


মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার (১৩ মে) বিকালে শেষ পরিশোধন কার্যক্রম চলেছিল।


একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারটি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে ভুগছে। সম্প্রতি সমস্যার কারণে তেলের চালানও আটকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল আগেই।


সম্প্রতি ইআরএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছিলে, বর্তমান মজুত দিয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাভাবিক কার্যক্রম (যদি প্রতিদিন চার হাজার ৫০০ টন ক্রুপুটের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চলে) চালানো সম্ভব। এরপর নতুন চালান আসার ওপর ভিত্তি করে কার্যক্রমে কিছুটা সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে।


ক্রুপুট বলতে বোঝায়— শোধনাগারটি প্রতিদিন যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে। মজুত তেলের স্থায়িত্ব বাড়াতে এই ক্রুপুট কম-বেশি করে সমন্বয় করা যায়।


মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাবে প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পরবর্তী আমদানি চালান দেশে আসার আগপর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ইআরএল কর্তৃপক্ষকে।


ইআরএল কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন এবং অপরিশোধিত তেলের চারটি ট্যাংকের ডেড স্টক (মজুত ট্যাংকের তলানিতে জমে থাকা অপরিশোধিত তেল) তুলেও পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে থাকে। তবে ক্রুড সংকটের কারণে গত মাস থেকেই পরিশোধন কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টন করা হয়েছিল। গত ৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে এসেছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইআরএলের একজন কর্মকর্তা বলেন, “পাঁচটি ট্যাংকের তলানিতে প্রায় ৩৩ হাজার টন ক্রুড তেল ডেডস্টক ছিল। আর এসপিএম থেকে ৫ হাজার টন আনা হয়েছিল রিফাইনারিতে। এগুলো দিয়ে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু এটি অনিরাপদ অপারেশন। কারণ ডেডস্টকে ময়লা-বর্জ্য জমে থাকে। এগুলো যেকোনো সময় পাম্পে আটকে যেতে পারে। যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে।”


ইআরএলের আরেক বলেন, “রোববার বিকালে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ট্যাংকের তলানির ১.৫ মিটারের মতো ডেডস্টক ধরা হয়। রোববার বিকালে তা ১ মিটারের নিচে নেমে গেছে। ফলে আর তা ব্যবহার উপযোগী নয়। আর ডেডস্টকের তেলে থাকা বর্জ্য, স্লাগের কারণে প্ল্যান্টের ক্ষতি হতে পারে। এসব বিবেচনায় পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।”


১৯৬৮ সাল থেকে ইআরএল বেশ ভালোভাবেই চলে আসছে। প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর অন্তর এর পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ (টার্নঅ্যারাউন্ড) কাজ চলে।


সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মার্চ মাসে মোট দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসার কথা ছিল। কিন্তু সেই চালান দুটি পৌঁছাতে দেরি হওয়ার কারণেই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।


তবে অপরিশোধিত তেলের মজুত শেষ হওয়ার কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি অস্বাভাবিক ঘটনা।


সম্পর্কিত খবর