আন্তর্জাতিক

লেবাননে ইসরাইলের হা/মলায় নিহত ১৪

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

লেবাননে ইসরাইলের হা/মলায় নিহত ১৪- খবরের থাম্বনেইল ফটো

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোববার এ কথা জানিয়েছে। 


এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন। 


লেবাননের বৈরুত থেকে এএফপি এ কথা জানিয়েছে।


ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যখন একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের নতুন অভিযোগ তুলছে, তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটল। 


ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে জোরালোভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে।


অন্যদিকে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব দেওয়া অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে।


গত ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে, ইসরাইলের সামরিক বাহিনী লেবাননে বারবার হামলা চালিয়েছে। 


গত বৃহস্পতিবার এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়। 


ছয় সপ্তাহের সেই যুদ্ধে ইসরাইল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলেও আগ্রাসন চালিয়েছিল।


ইসরাইলের সেনারা বর্তমানে ইসরাইল ঘোষিত ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) গভীর একটি ইয়েলো লাইন বা হলুদ রেখার ভেতরে অবস্থান করছে। 


এটি লেবাননের সীমানার ভেতরে অবস্থিত একটি এলাকা, যেখানে বাসিন্দাদের ফিরে না আসার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।


লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববারের নিহতের তালিকায় দুই নারী ও দুই শিশু রয়েছে। এ ছাড়া এই হামলায় আরও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। 


এএফপি’র সংগৃহীত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন।


ইসরাইলের সামরিক বাহিনী রোববার জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে লড়াই চলাকালীন, তাদের একজন সেনা নিহত ও ছয় জন আহত হয়েছেন। 


এই আহতদের মধ্যে চার জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।


লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, রোববার দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক স্থানে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে। ইসরাইল যে সব এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, সেই এলাকার ভেতরে ও বাইরে উভয় স্থানেই এই হামলা চালানো হয়। 


এএফপির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সতর্কবার্তা ও তীব্র হামলার পর মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উত্তর দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।


সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ম লঙ্ঘন আসলে যুদ্ধবিরতিকে অকার্যকর করে দিচ্ছে।’ তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গত ২ মার্চ ইসরাইলে রকেট হামলা চালানোর পর লেবানন এই ভয়াবহ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। 


মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে তারা ওই হামলা শুরু করেছিল।


নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী জোরালোভাবে কাজ করছি।’ 


উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে ইসরাইলি ও লেবানিজ কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক যুগান্তকারী বৈঠকের পর এই যুদ্ধবিরতি আসে, যা হিজবুল্লাহকে ক্ষুব্ধ করেছে। 


সেই সমঝোতা অনুযায়ী, ইসরাইল যে কোনো পরিকল্পিত, আসন্ন বা চলমান হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে।


নেতানিয়াহু আরও বলেন, এর অর্থ হলো কেবল হামলার জবাব দেওয়াই নয়, বরং আসন্ন হুমকি বা উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও আমাদের কাজের স্বাধীনতা রয়েছে।


অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বলেছে, ইসরাইলের ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও সর্বোপরি লেবাননের ভূখণ্ডে দখলদারিত্ব ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। 


গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, লেবাননের গ্রামগুলোতে হামলার প্রতিবাদে তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের সেনা ও অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।


লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলের হামলায় ২ হাজার ৫০০-এরও বেশি মানুষ নিহত ও ৭ হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।


সম্পর্কিত খবর