বাণিজ্য
অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে তামাকের কর ও দাম বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর

অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়িয়ে জাতীয় বাজেটকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
তিনি বলেছেন, ঋণনির্ভরতা কমিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানো এবং তামাকের মতো জনস্বাস্থ্যবিরোধী পণ্যের ওপর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একইসঙ্গে তামাক উৎপাদনকারী কৃষক ও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করে এই খাতের অবৈধ বাজার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
আজ রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক নীতি) মো. মশিউর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো কর কাঠামোর বাইরে। এনবিআরে ডিজিটাইজেশনের নামে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও তা ঠিকমতো কাজ করছে না। বছরের পর বছর মেইনটেন্যান্সের জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা আসলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আহরণের বদলে লুটপাটের প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঋণ করে এডিপি তৈরি করে প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। উন্নতির নামে ফ্যাসিজম কায়েম না করে আমাদের অভ্যন্তরীণ আয় বাড়িয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ট্যাক্স এবং বেজ প্রাইজ (ভিত্তি মূল্য) এমন জায়গায় নেওয়া দরকার, যাতে এর ব্যবহার কমে। তবে, এটি করতে গিয়ে কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’
তামাক চাষি ও বিড়ি শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তামাক উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে শ্রমিক ও কৃষকরা আন্ডারপেইড। তাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে পণ্যের দাম কম রেখে বাজার বিস্তৃত করার যে চেষ্টা তামাক কোম্পানিগুলো করে, সরকার তা নীতিগতভাবে বন্ধ করতে সচেতন। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা হলে পণ্যের দাম এমনিতেই বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে তামাকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে।’
তিনি জানান, ‘তামাক খাতের বড় একটি সমস্যা হলো অবৈধ ব্যান্ডরোল। বিদেশ থেকে নকল ব্যান্ডরোল ছাপিয়ে এনে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। এই লিকেজ বন্ধে এনবিআর-কে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা একটি ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। তবে, তা সাধারণ মানুষকে শোষণ করে নয়, বরং তাদের অন্তর্ভুক্ত করে। সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরো কার্যকর করতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান নাম্বার’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মশিউর রহমান বলেন, দেশে তামাকপণ্য তুলনামূলক সহজলভ্য ও সস্তা থাকায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি জানান, ২০২৪ সালের কর পদক্ষেপের পর সিগারেটের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি।
তিনি বলেন, খুচরা পর্যায়ে সিগারেট বিক্রি নিয়ন্ত্রণে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি এবং ট্র্যাকিং অ্যান্ড ট্রেসিং ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে এনবিআর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সেমিনারে অন্য বক্তারা বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তামাক ও কার্বন কর থেকে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য পূরণে বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা তামাকপণ্যের কর কাঠামো সংস্কার এবং দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব তুলে ধরেন।







