আন্তর্জাতিক
যুদ্ধবিরতির প্রাক্কালে হামলার অভিযোগ ইউক্রেনের, নিহত অন্তত ২৮

কিয়েভ ঘোষিত একতরফা যুদ্ধবিরতি বুধবার কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এরই মধ্যে নতুন হামলার অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেন।
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে। প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত ইউক্রেনের কোনো হামলার খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি মস্কো।
তবে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কর্মকর্তারা বুধবার ভোরে জানান, রুশ বাহিনী সেখানকার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এই সপ্তাহে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে উভয় পক্ষই একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়।
৯ মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবস উদযাপনের সঙ্গে মিলিয়ে বিরতি চায় রাশিয়া।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর বিরুদ্ধে ‘চরম ভণ্ডামির’ অভিযোগ তোলেন। যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একই সঙ্গে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সমালোচনা করেন তিনি।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইগর ক্লিমেনকো মঙ্গলবার গভীর রাতে কিয়েভের স্থগিতাদেশ কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে জানান, পোলতাভা, খারকিভ, দোনেৎস্ক, দনিপ্রোপেত্রভস্ক, জাপোরিঝিয়া, খেরসন, ওদেসা, চেরনিগিভ ও সুমি অঞ্চলে রুশ হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আজকের রুশ হামলায় সারা দেশে ২৭ জন নিহত এবং অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন।’
পরে পূর্বাঞ্চলীয় ক্রামাতোরস্ক শহর থেকে আরও একজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নেয়। ক্রিমিয়া অঞ্চলের প্রধানের কাছ থেকে বুধবার ভোরে পাওয়া এক সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সেখানে পাঁচ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যে মঙ্গলবার রাতে দনিপ্রো শহরে হামলা চালায় রাশিয়া।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে বলেন, ‘ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। কিন্তু রাশিয়ার আচরণে যুদ্ধ বন্ধের কোনো প্রস্তুতির লক্ষণ নেই। বরং মস্কো সন্ত্রাস বাড়াচ্ছে।’
এর আগে জাপোরিঝিয়ায় ১২ জন নিহতের ঘটনায় জেলেনস্কি বলেন, এর ‘কোনো সামরিক যৌক্তিকতা নেই।’
রুশ হামলায় দোনেৎস্ক অঞ্চলে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা শেষ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ক্রামাতোরস্ক শহরের কেন্দ্রেও আঘাত হানে।
শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর গনচারেঙ্কো জানান, সেখানে ছয় জন নিহত হয়েছেন। আগে পাঁচ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল।
জেলেনস্কি বলেন, হামলাটি শহরের কেন্দ্রস্থলে, বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, দনিপ্রোতে চার জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক এ সব হামলা সবচেয়ে প্রাণঘাতী। এতে করে শান্তি প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরবের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
মুখপাত্র টমি পিগট জানান, তারা যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইরান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
রাশিয়াও ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তারা জানায়, দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
৯ মে রাশিয়ার কুচকাওয়াজ সাধারণত সামরিক শক্তির বড় প্রদর্শনী। এতে নাৎসি জার্মানির ওপর সোভিয়েত বিজয়ের সঙ্গে ইউক্রেন অভিযানের যোগসূত্র তুলে ধরা হয়।
তবে নিরাপত্তা শঙ্কায় এ বছর কুচকাওয়াজ সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে ক্রেমলিন। কোনো সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হবে না।
প্যারেডের আগে মঙ্গলবার সকালে মস্কোয় মোবাইল ইন্টারনেটও সীমিত করা হয়। অপারেটররা জানায়, এই বিধিনিষেধ শনিবার পর্যন্ত থাকতে পারে।
সম্প্রতি কিয়েভ দূরপাল্লার পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও মস্কোর একটি বিলাসবহুল উঁচু ভবন লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
ইউক্রেন বলছে, তাদের শহরগুলোতে রাশিয়ার নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নতুন নয়। গত মাসে অর্থডক্স ইস্টার উপলক্ষে উভয় পক্ষ দূরপাল্লার হামলা স্থগিত করেছিল।
চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ আলোচনার টেবিলে সমাধানের কাছাকাছির কোনো ইঙ্গিত নেই।
মস্কো দাবি করেছে, কিয়েভকে পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং পশ্চিমা সামরিক
সহায়তা ত্যাগ করতে হবে। ইউক্রেন এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।







