জাতীয়

মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে অস্থিরতা

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে অস্থিরতা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান।


মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর পাইকারি কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পাইকারি কাঁচাবাজারে দোকান দখলদারিত্ব ও নীরব চাঁদাবাজি চললেও ব্যবসায়ীরা ভয়ে মুখ খুলতে চান না। “চাঁদাবাজরা আফ্রিকার জঙ্গল থেকে আসে না, তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি। আমরা চাই এই চাঁদাবাজি বন্ধ হোক। মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে,” বলেন তিনি।


জামায়াত আমির বলেন, সংসদের ৩০০ সদস্য যদি আন্তরিকভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে দেশে চাঁদাবাজি চলবে না, তাহলে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ড করার সাহস পাবে না। কিন্তু রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকলে চাঁদাবাজি বন্ধ করা কঠিন।


তিনি বলেন, আগেও বাজার অস্থির ছিল, তবে ইদানীং তা আরও বেশি অস্থির হয়ে উঠেছে। মাঝখানে জ্বালানি সমস্যা ছিল, তার সঙ্গে চাঁদাবাজির চাপও ছিল। এই দুইটির সমন্বয়ে বাজার অস্থির হয়ে পড়ে—এটিও আমরা জানি। ঘাটে ঘাটে সিন্ডিকেট রয়েছে, এটিও আমাদের জানা। এই বিশাল মার্কেটের দোকানগুলোতে কেউ স্বস্তির সঙ্গে ব্যবসা করতে পারছে না।


জামায়াত আমির বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণে ভোক্তারা যেমন ন্যায্যমূল্যে পণ্য পান না, তেমনি কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। মাঝখানের অতিরিক্ত মুনাফা অন্যদের পকেটে চলে যায়। আমরা এই ব্যবস্থা ভাঙতে চাই। কখন তা সম্ভব হবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন, তবে আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে এবং তা চলবে।


তিনি আরও বলেন, এই দেশ আমরা সবাই মিলে ভালো করতে পারব। একা কেউ বা কোনো দল একা তা পারবে না। এজন্য জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশ জনগণের জন্য, দেশের মালিকও জনগণ। এই জনগণের স্বার্থে আমাদের লড়াই-সংগ্রাম ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।


বাজার পরিদর্শনের সময় জামায়াত আমির ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা শোনেন। এ সময় একজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী দোকানের ভাড়া প্রতি ঘর ৫ হাজার টাকা (প্রতি বর্গফুট ১৩ টাকা) হলেও, অতীত সরকারের সময় কিছু রাজনৈতিক নেতার প্রভাব খাটিয়ে সেগুলো সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়ায় নেওয়া হচ্ছে।


পণ্যে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যে পণ্যের দাম ১০ টাকা হওয়ার কথা, চাঁদা দেওয়ার কারণে তা ১২ বা ১৩ টাকায় বিক্রি করতে হয়। শেষ পর্যন্ত এর পুরো বোঝা গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।”


ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। চাঁদাবাজির তথ্য প্রকাশ করায় কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।


সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ ও বাজারের অনিয়ম নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরলে সামাজিক সচেতনতা বাড়বে এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান এবং মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।


সম্পর্কিত খবর