বাণিজ্য
চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা কমে আস্থা ফিরছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে

নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদারের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় দস্যুতা ও চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। গত প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসে কোনো দস্যুতা বা জাহাজে চুরির অভিযোগ না থাকায় বন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। এতে বন্দর ব্যবহারে আস্থা বাড়ছে এবং শিপিং খরচেও কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী নদীর মোহনা, আলফা, ব্রেভো ও চার্লি অ্যাংকারেজ এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের মেটাল শার্ক বোট। পাশাপাশি আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা ও সমন্বিত নজরদারির মাধ্যমে সন্দেহজনক নৌযান শনাক্ত ও প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৩টি দস্যুতা ও চুরির ঘটনা রেকর্ড করা হয়। ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ৪টি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো নতুন ঘটনা না থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের ৬২ নটিক্যাল মাইল এলাকাকে দস্যুমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আঞ্চলিক সংস্থা রিক্যাপ, যা এশিয়ার সমুদ্রপথে দস্যুতা প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করে।
কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১ হাজার ৩২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজে দস্যুতার চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে এবং চুরি হওয়া পাঁচটি জাহাজের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, “ছোটখাটো চুরি বা স্কিমিংয়ের চেষ্টা থাকতে পারে, তবে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বন্দরের ভিটিএমএস সিস্টেমের সমন্বিত নজরদারির কারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে অপরাধীরা সুযোগ পাচ্ছে না।”
কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আউটার অ্যাংকারেজ ও কুতুবদিয়ার বহির্নোঙরে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজ চিহ্নিত করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর আস্থা ফিরছে। আগে দস্যুতার ঝুঁকির কারণে জাহাজ মালিক ও চার্টারাররা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করতেন, যা এখন অনেকটাই কমে আসছে।
চট্টগ্রাম নৌবাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, “আগে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ মালিক চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে অনীহা দেখাতেন। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বাণিজ্য ব্যয় কমছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করেছে। প্রতিবছর গড়ে ৪ হাজারের বেশি কন্টেইনারবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ এ বন্দরে আসে। এত বিপুল সংখ্যক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও বর্তমানে বন্দর ও বহির্নোঙরে বড় ধরনের দস্যুতার কোনো ঘটনা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।








