ক্যাম্পাস
জাবিতে শারীরিক শিক্ষার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও ব্যক্তিগত আক্রোশের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক সাবিহা কবীরের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, ব্যক্তিগত আক্রোশ, অব্যবস্থাপনা ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী খেলোয়াড়রা।
বুধবার (২০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন তারা।
খেলোয়াড়রা অভিযোগ করেন, সাবিহা কবীর দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে দল নির্বাচন করেন, অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকেন, মেয়েদের প্রতি বাজেটে বৈষম্য করেন এবং অপমানজনক আচরণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।
অভিযোগপত্রে ফুটবল ও ভলিবল দলের খেলোয়াড়রা জানান, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের খেলায় বাজেট সংকট লেগেই আছে। বাজেট অনুমোদিত হলেও অনেক সময় অর্ধেক দৈনিক ভাতা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে।
সাম্প্রতিক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে (১৩–১৪ মে) দায়িত্বে থাকা সাবিহা কবীর খেলোয়াড়দের নিরুৎসাহিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। মাঠে তিনি বলেন, “আমরা হাফ টাইম খেলে, গোল খেয়ে ওদেরকে ম্যাচ জিতিয়ে দিয়ে চলে যাব”, যা খেলোয়াড়দের জন্য অপমানজনক ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
একই কোচ ভলিবল দলের সঙ্গেও (১৫ মে) গিয়ে কোর্টের ভেতরে ঢুকে খেলোয়াড়দের বকাবকি করেন এবং ভুল নির্দেশনা দিয়ে ম্যাচ হারানোর কারণ হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
খেলোয়াড়রা আরও বলেন, সাবিহা কবীর অনুশীলনে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। টিম সিলেকশনে পছন্দের খেলোয়াড়দের রাখার চেষ্টা করেন এবং অপছন্দের খেলোয়াড়দের বাদ দেন বা মানসিক নির্যাতন করেন। একজন খেলোয়াড়ের অভিযোগ, কোচের দুর্ব্যবহারের কারণে তিনি পরীক্ষায় রিটেক দিতে বাধ্য হয়েছেন।
অভিযোগপত্রে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— সাবিহা কবীরের যোগ্যতা যাচাই ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা; মেয়েদের সব খেলায় পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা; রাজনৈতিক বিবেচনা উপেক্ষা করে দক্ষ কোচ নিয়োগ; অনুশীলনে মানসম্মত সরঞ্জাম নিশ্চিত করা; প্র্যাকটিস অ্যাটেনডেন্স ফি তাৎক্ষণিক প্রদান; এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে টিম সিলেকশনে জালিয়াতি বন্ধ করা।
অভিযোগের বিষয়ে সাবিহা কবীর বলেন, “আমি আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগপত্র পাইনি।” পরে তিনি এ বিষয়ে আর কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো টিম কোথাও পাঠানোর আগে যেন আমার অনুমোদন নেওয়া হয়।”
খেলোয়াড়রা বলেন, একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া পরিবেশে বৈষম্য ও স্বেচ্ছাচারিতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।








