আন্তর্জাতিক
ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’, নেতৃত্বে মোজতবা খামেনি

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন এক ক্ষমতা কাঠামোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দীর্ঘ শাসনামলের পর সম্ভাব্য উত্তরসূরি ও নীতিনির্ধারণী প্রভাব নিয়ে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে তাঁর মৃত্যু বা আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য বা সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই।
নিউইয়র্ক টাইমসসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতার ভেতরে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক কাজ করছে, যাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। এই গোষ্ঠীতে মূলত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বর্তমান ও সাবেক উচ্চপদস্থ কমান্ডাররা অন্তর্ভুক্ত।
এ গোষ্ঠীকে রিপোর্টে ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’ বলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এদের অনেকেই ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময় সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং খুব অল্প বয়সেই জেনারেল পদে উন্নীত হন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা ধীরে ধীরে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে আসেন।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, এই প্রভাবশালী কমান্ডারদের অনেকের সঙ্গে মোজতবা খামেনির ব্যক্তিগত ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, যা গড়ে উঠেছিল তার পিতার অফিসে কাজ করার সময় থেকে। এখন এই নেটওয়ার্কই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে এক ধরনের সমন্বিত শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোষ্ঠীর অভিন্ন সামরিক পটভূমি, কঠোর নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি এবং আদর্শিক অবস্থান ইরানের ক্ষমতার কাঠামোকে ভেঙে না দিয়ে বরং আরও স্থিতিশীলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী সাঈদ গোলকার বলেন, এই ‘ব্রাদারহুড’ নেটওয়ার্কের সদস্যরা একে অপরকে নজরদারিতে রাখে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর তাদের শক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে তারা ধীরে ধীরে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রায় সব দিকেই প্রভাব বিস্তার করেছে।








