জাতীয়
রাত ৯টার মধ্যে ঢাকাকে বর্জ্যমুক্ত করতে চলছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বেলা ১১টা। তখনো রাজধানীর শান্তিবাগ ও গোলবাগ এলাকায় কোরবানির পশু জবাইয়ের পর কাটাকাটি চলছিল। কোথাও কোথাও নতুন করে পশু জবাইও হচ্ছিল। তবে যেসব বর্জ্য তৈরি হচ্ছিল, সেগুলোই সংগ্রহ করছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মীরা।
শান্তিবাগ নূর মসজিদসংলগ্ন এলাকায় একটি ট্রাকে করে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করছিলেন তিনজন কর্মী। কথা হলে তাঁদের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. ইকবাল বলেন, ‘আমরা এক ঘণ্টা আগেই কাজ শুরু করেছি। একেবারে সব ময়লা নেওয়া কঠিন হবে। তাই ধাপে ধাপে নিচ্ছি। এখন চক্কর দিয়ে আপাতত যেগুলো পাচ্ছি, সেগুলোই নিয়ে যাচ্ছি। আরও কয়েক দফায় এসে আমরা ময়লা নিয়ে যাব।’
ট্রাকচালক কবির বলেন, ‘ময়লা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণই নেব। আমাদের ওপর সিটি করপোরেশন থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়লা অপসারণের কাজ শেষ করার তাড়া আছে।’
বেলা সোয়া ১২টা। বারিধারার কালাচাঁদপুর এলাকায় কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করে পিকআপে করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) নিচ্ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তিনজন কর্মী। তাঁরা নর্দা থেকে গুলশান রোডের কোরবানির বর্জ্যগুলো সংগ্রহ করছিলেন।
কালাচাঁদপুর এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইমান আলী ও শাহজালাল বলেন, ‘বিকেলের মধ্যে আমাদের কাজ শেষ করার নির্দেশনা আছে। নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ চালাচ্ছি। পাশাপাশি কেউ যেন যত্রতত্র রাস্তার পাশে ময়লা না রাখতে পারে, সেটিও আমরা নজরে রাখছি।’
রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারাসহ অন্যান্য এলাকাতেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ব্যস্ততা দেখা গেছে। দুই সিটি করপোরেশন বলছে, তাদের লক্ষ্য রাত ৯টার মধ্যে পুরো ঢাকার প্রথম দিনের কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা।
সিটি করপোরেশন দুইভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজ করছে। প্রথমত, বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়োজিত কর্মীরা বর্জ্য সংগ্রহ করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) নিচ্ছেন। পরে সেখান থেকে ড্রাম ট্রাকে করে ঢাকা দক্ষিণের বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে এবং উত্তরের বর্জ্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে পাঠানো হচ্ছে।
এবার ঢাকায় প্রায় ৫৫ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দুই সিটি করপোরেশন। সেই লক্ষ্যে মোট ২৯ হাজার ৫০০ জনবল নিয়োজিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাক, কম্প্যাক্টর, কনটেইনার ক্যারিয়ার, পে-লোডার, ডোজারসহ মিলিয়ে ডিএসসিসিতে প্রায় ৩ হাজার যান ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় রাজধানীর কলাবাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) থেকে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য স্থানান্তরের মাধ্যমে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। এ সময় তিনি রাত ৯টার মধ্যে প্রথম দিনের বর্জ্য অপসারণের আশা প্রকাশ করেন।
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘ডিএসসিসি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর থেকে পরবর্তী আট ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম দিনের কোরবানির সব বর্জ্য ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হবে। আজ রাত ৯টার মধ্যেই পুরো ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকা কোরবানির বর্জ্যমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
পরিচ্ছন্ন নগরী বজায় রাখতে সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে আমি সম্মানিত নগরবাসীকে ডিএসসিসি নির্ধারিত স্থানে কোরবানি সম্পন্ন করার জন্য বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রথম দিনে প্রায় ১৫ হাজার ৯৩৫ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য মাঠপর্যায়ে মোট ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।’
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা ইনশা আল্লাহ সরকারের নির্ধারিত সময়ের আগেই ডিএনসিসি এলাকার কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হব।’




