জাতীয়

মন্ত্রিত্বের বেতনে সংসার চলে না, রোগী দেখা শুরু করেছেন ডা. জাহিদ

ডেস্ক

শেয়ারঃ

মন্ত্রিত্বের বেতনে সংসার চলে না, রোগী দেখা শুরু করেছেন ডা. জাহিদ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন। ছিলেন চিকিৎসকদের নেতা। দায়িত্ব পালন করেছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব হিসেবে। সেইসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবেও কাজ করেছেন।


চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি নানা দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা। পরে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। রাজনীতি আর চিকিৎসা পেশা সমানভাবে চালিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করার তাকে মনোনীত করা হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে। একইসঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়েরও।


মন্ত্রী হওয়ার পর নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন ডা. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিত্ব কোনো সোনার হরিণ নয়, সোনার বাটিও নয়। আমি জাহিদ হোসেন মন্ত্রী হওয়ার আগে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি স্বাবলম্বী ছিলাম। মন্ত্রী হওয়ার পর বরং অর্থনৈতিকভাবে অনেক কষ্টের মধ্যে আছি।’


গতকাল বুধবার (২৭ মে) দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ব্যক্তিদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে বিভিন্ন আলোচনা।


অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘যে কয় টাকা বেতন দেয়, এই কয় টাকা দিয়ে সংসার চলে না। এজন্য দুই ঘণ্টা করে রোগী দেখা শুরু করে দিয়েছি, সপ্তাহে তিন দিন দুই ঘণ্টা করে রোগী দেখি। যাতে সংসারটা ভালো চলে। সকাল ৬টা থেকে দৌড় শুরু করতে হয়। কখন অফিসে যাব, কখন রেডি হবো আর কখন কাজ করব। রাত ২টা পর্যন্ত দৌড়ের ওপর থাকতে হয়। কাজেই এটা একটা কঠিন দায়িত্ব, কোনো লোভনীয় বিষয় নয়।’


তিনি আরও বলেন, ‘যারা বিভিন্ন কথা বলেন, তাদের কাছেও প্রশ্ন আছে— ২০২৪ সালের আগস্টের পর অনেকের চেহারার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। অনেক দামি কাপড়-চোপড় পরেন। তাদের কাছেও আমাদের জানার আগ্রহ আছে। আমাদের তো আয়কর ফাইল আছে, আপনাদের ট্যাক্স ফাইলটা কতদিন আগে খুলেছেন, ট্যাক্স ফাইলের কী অবস্থা— সেগুলোও আয়নায় চেহারার মতো জনসমক্ষে উপস্থাপন করবেন।’


তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিত্ব নাকি খুবই লোভনীয় বিষয়। যারা এ কথা বলেন, আমি তাদের জন্য বলি— এটি হয়তো ১২ ফেব্রুয়ারির আগের ঘটনা হতে পারে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মন্ত্রিত্ব কোনো লোভনীয় বিষয় নয়, খুবই কঠিন দায়িত্ব।’


স্বৈরাচার ও গণতন্ত্র প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের আমল অথবা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা অথবা এই ১০২ দিনের মন্ত্রিত্ব নিয়ে যারা কটাক্ষ করার চেষ্টা করেন, তাদের বলব— ভাই, স্বৈরাচার আর গণতন্ত্র এক নয়। বর্তমান সরকার, বর্তমান মন্ত্রীরা এবং বর্তমান প্রশাসন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। কারণ, জনগণের নির্বাচিত ও জনগণের দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান সরকার এবং প্রশাসন। সে জন্যই আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।’


সম্পর্কিত খবর