খেলাধুলা
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর দিন মেক্সিকোর তরুন তুর্কি গিলবার্তো মোরার বয়স হবে ১৭ বছর ২৪০ দিন। এর মাধ্যমে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন মোরা।
ফিফা প্রকাশিত ৪৮ দলের অফিসিয়াল তালিকা অনুযায়ী এবারের বিশ্বকাপে বিভিন্ন দলে ২২ জন টিনএজার অংশ নিচ্ছেন। রেকর্ড ১২৪৮ জন খেলোয়াড় ৪৮ দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে। যাদের মধ্যে টিনএজ মিডফিলডার মোরা সর্বকনিষ্ঠ।
মোরার সামনে সুযোগ রয়েছে বিশ্বকাপে নিজের প্রতিভার প্রমান দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে গোল করার রেকর্ড ধরে রেখেছেন। ১৯৫৮ সালে শিরোপা জয়ী ব্রাজিলে খেলেছিলেন ১৭ বছর বয়সী পেলে। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স দলে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী কিলিয়ান এমবাপ্পে।
দুই দশক আগে ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে ১৮ বছর বয়সে খেলতে নেমেছিলেন।
বেশ কয়েকজন টিনএজার নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেই বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন। যাদের মধ্যে স্প্যানিশ দুই তারকা ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল ও ১৯ বছর বয়সী পও কুবারসি অন্যতম। জার্মানীর ১৮ বছর বয়সী লেনার্ট কার্ল বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
আরও কিছু খেলোয়াড় যাদের বয়স ১৯ ছাড়িয়ে গেছে, তারাও প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন।
২০ বছর বয়সী ওয়ারেন জেইরি-এমেরে ও ২১ বছর বয়সী ডিসায়ার ডুয়ে ফ্রান্স দলের অন্যতম ভরসার নাম। দুজনেই দুইবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ী পিএসজির খেলোয়াড়।
২১ বছর বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন ইংল্যান্ডের নিকো ও’রিলি ও তুরষ্কের আরদা গুলার। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে আছেন ২১ বছর বয়সী নিকো পাজ।
লিগা এমএক্স’র খেলোয়াড় মোরা গত এক বছর ধরেই মেক্সিকোর অন্যতম উদীয়মান তারকা হিসেবে নিজেকে প্রমান করে চলেছেন। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেলে মেক্সিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবেও তিনি রেকর্ড গড়বেন। ২০২৫ সালে গোল্ড কাপ বিজয়ী মেক্সিকো দলের সদস্য ছিলেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেক্সিকান প্রথম বিভাগে খেলতে নেমে মোরা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তার জাতীয় দলে অভিষেক হয়।
রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও প্রিমিয়ার লিগের কিছু দল নিয়মিত টিনএজারদের নিয়ে কাজ করে আসছে ও তাদের সুযোগ করে দিচ্ছে। এছাড়াও এবারের বিশ্বকাপে আরও কিছু উদীয়মান তারকা রয়েছেন যাদের দিকে সকলের নজড় থাকবে।
আইভরি কোস্টের ১৯ বছর বয়সী ইয়ান ডায়মন্ড বুন্দেসলিগায় লিপজিগের হয়ে দারুন মৌসুম কাটিয়েছেন। লিগ ওয়ানে লিঁওর হয়ে খেলা ১৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার এনড্রিক ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার অপেক্ষায় রয়েছেন। ১৮ বছর বয়সী সেগোলিস ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম এমবায়ে আফ্রিকান নেশন্স কাপের মাধ্যমে সামনে আসেন। সেনেগালের ফাইনাল খেলার পিছনে তার অবদান ছিল। ঐ সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর। ইকুয়েডরের জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলছেন ১৯ বছর বয়সী এ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কেন্ড্রি পায়েজ।
৪৩ দিন ১৬২ বছর বয়সে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশী খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামতে যাচ্ছেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন।
৪১ বছর বয়সী পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোসহ ৪০ বছরের বেশী বয়সে আরও ছয়জন খেলোয়াড় এবারের আসরে খেলছেন।
ফিফার তালিকানুযায়ী ৩৫৭ জন খেলোয়াড়ের অন্তত একটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাকি ৮৯১ জনেরই বিশ্বকাপে অভিষেক হতে যাচ্ছে।







