বাণিজ্য

মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামানো প্রায় অসম্ভব

ডেস্ক

শেয়ারঃ

মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামানো প্রায় অসম্ভব- খবরের থাম্বনেইল ফটো

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।


শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।


সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ সংস্থাটির অন্যান্য গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।


ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট, যা এমন এক সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে যখন অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি দুর্বল, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ স্থবির, কর্মসংস্থান সৃষ্টিও সীমিত। রাজস্ব আহরণে ঘাটতি ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।


তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। জ্বালানি সংকট বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাজেটকে মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রবৃদ্ধিবান্ধব অর্থনীতি গঠনের একটি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাজেটের অন্তর্নিহিত দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


সংস্থাটির মতে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের বিষয়ে মিল রয়েছে।


তবে সিপিডি বলছে, বাজেটের সাফল্য এর আকারের ওপর নয়, বরং বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়নে দুর্বলতা থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।


সংস্থাটি আরও বলেছে, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যারা দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।


এদিকে, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।


ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।


প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর