ক্যাম্পাস

নিকাব নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ইবির নারী শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ইবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

নিকাব নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ইবির নারী শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন- খবরের থাম্বনেইল ফটো

জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নিকাব-সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সম্মিলিত নারী শিক্ষার্থীরা।


সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করেন।


মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সেসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘আল্লাহর আদেশে হিজাব পড়ি, উপহাসকারীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি’, ‘নারীকে পোশাকে বিচার, এটাই তোমার সভ্যতা?’, ‘চেহারা নয়, সম্মান চাই; নিকাব পরি, সেই পরিচয়’, ‘আমার মাথার ওড়না তোমার ভয় কেন?’, ‘হিজাব নিয়ে মশকরা চলবে না’, ‘আমার হিজাব আমার গর্ব, ঘৃণার কাছে কখনো নয় পরাজিত’ প্রভৃতি স্লোগান।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সংবিধান প্রণয়ন কমিটিতে নারী সদস্য হিসেবে বেগম রেজিয়া বানু ছিলেন এবং তিনি পর্দানশীল ছিলেন। সেই সংবিধানের আলোকে পরিচালিত সংসদে দাঁড়িয়ে একজন সংসদ সদস্য কীভাবে হিজাব-নিকাব নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করতে পারেন, তা তাদের বোধগম্য নয়।


তারা আরও বলেন, অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে হিজাব-নিকাব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য শোনা গেছে। এসব ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা। ভবিষ্যতে কোনো নারী যেন তার পোশাক বা ধর্মীয় অনুশীলনের কারণে আক্রমণ কিংবা উপহাসের শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করেন তারা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান বলেন, “সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। আমাদের ধর্মে পর্দা করার নির্দেশনা রয়েছে। সেই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করা দুঃখজনক। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু কারও ব্যক্তিস্বাধীনতা বা পোশাক নিয়ে কটূক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।”


তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের মন্তব্যের পর সরকার বা সংশ্লিষ্ট মহল থেকে কোনো দুঃখ প্রকাশ কিংবা নিন্দা জানানো হয়নি। সমাজের বিভিন্ন অংশও এ বিষয়ে নীরব রয়েছে, যা হতাশাজনক।”


এদিকে, একই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে।


সম্পর্কিত খবর