আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্টের চুক্তি স্বাক্ষর

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে বুধবার একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
চুক্তি অনুযায়ী, তেহরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাস করবে। এর বিনিময়ে দেশটি ব্যাপক অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে বলে জানানো হয়েছে।
জি-৭ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক নৈশভোজে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন দুই নেতা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁসহ অন্যান্য অতিথিরা। একটি ভিডিওতে তাদের করতালির দৃশ্য দেখা যায়।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এইমাত্র স্বাক্ষর করলাম।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, “দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে দলিলটি চূড়ান্ত হয়েছে।”
চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্স-এ জানান, এটি “তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর” হবে।
চুক্তির লক্ষ্য হলো ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের অবসান ঘটানো। ওই সংঘর্ষে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যার ফলে হরমুজ প্রণালীতে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দেয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হবে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তায় গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল থেকে অর্থায়ন শুরু হবে।
এর আগে চুক্তিতে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের স্বাক্ষরের কথা ছিল। তবে ইরান জানায়, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রয়োজন নেই।
শাহবাজ শরিফ আরও জানান, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পরবর্তী কারিগরি আলোচনা শুরু হবে।
‘বড় বিজয়’ দাবি
ইরান এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের “ব্যর্থতার প্রতিফলন” বলে দাবি করেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গালিবাফ বলেন, “মানুষ এটি দেখবে এবং নিজেরাই বিচার করবে।”
চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব পক্ষের জন্য চুক্তির অঙ্গীকার বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমালোচনার মুখে পড়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি বলেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং এটি “দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ভুল” হতে পারে।
অন্যদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম চুক্তিটিকে ইরানের জন্য “বড় বিজয়” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আলোচনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি
চুক্তির ফলে আগামী দুই মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর তত্ত্বাবধানে সীমিত করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা, যার উদ্দেশ্য দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার জন্য সময় তৈরি করা।
চুক্তির ঘোষণার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। প্রথমে দাম কমলেও পরে প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা
চুক্তি ঘোষণার পর লেবাননে সহিংসতা কিছুটা কমলেও দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ লেবাননে একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলায় তাদের পাঁচ সেনা আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
এছাড়া আরও কয়েকটি রকেট হামলার ঘটনা ঘটলেও সেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।







