জাতীয়
ভুয়া ব্যালট ও এনআইডি সংগ্রহের অভিযোগ তুলে গুপ্তচক্রের বিরুদ্ধে তারেক রহমানের সতর্কবার্তা

বরিশালে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, একটি গুপ্তচক্র দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “যাদেরকে দেশের মানুষ গুপ্ত শক্তি হিসেবে চেনে, তাদের লোকজন বিভিন্ন স্থানে ভুয়া সিল ও ব্যালট ছাপানোর সঙ্গে জড়িত বলে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।”
বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুর পৌনে ১টার দিকে বরিশাল নগরীর বান্দ রোডস্থ বেলস পার্কে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যাচ্ছে— কিছু পরিচিত প্রেস ব্যবহার করে ভুয়া ব্যালট ছাপানো হচ্ছে, যা ভোটের দিন পকেটে করে কেন্দ্রে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, তিনি অভিযোগ করেন যে, ওই চক্রের লোকজন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিরীহ নারী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য সংগ্রহ করছে।
তিনি বলেন, “যারা নির্বাচনের আগেই অনৈতিক কাজ শুরু করে, যারা মানুষের ভোটাধিকার হরণ করতে চায়, তারা কখনো সৎ ও ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।”
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, নারীদের সম্মানহানিকর কর্মকাণ্ড ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্টরা দায় এড়াতে নানা অজুহাত দিচ্ছে। কখনো আইডি হ্যাকের কথা বলা হচ্ছে, অথচ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন— এসব আইডি হ্যাকের কোনো প্রমাণ নেই। সত্য প্রকাশিত হলে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়াই তাদের চরিত্র।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “আগামী ১৩ তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর জনগণের পাশে থাকতে হবে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে কী পরিণতি হয়, তা ৫ আগস্ট জাতি প্রত্যক্ষ করেছে।”
নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলের অবদান স্মরণ করে বলেন, বিএনপিই প্রথম দেশে নারীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিল। ভবিষ্যতেও বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে নারীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও মর্যাদা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে তারেক রহমান হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অবতরণ করেন। প্রায় দুই দশক পর তাঁর বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
বরিশাল বিভাগ ও জেলার শীর্ষ বিএনপি নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান। সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৬ সালে তারেক রহমান বরিশাল সফর করেছিলেন। সে সময় তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর আগমন দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি ও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।








