আন্তর্জাতিক
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় যা যা হলো

দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষ। চেষ্টা থামায়নি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে এক টেবিলে বসাতে এবার পাকিস্তানের সঙ্গে মাঠে নামে কাতারও।
সেই ফলশ্রুতিতে আরেক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে সুইজারল্যান্ডে। প্রথম দিনের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল ও ইরানের জব্দ করা কিছু সম্পদের বিষয়ে আলোচনায় ‘বড় অগ্রগতি’ হয়েছে।
পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘পাকিস্তান ও কাতারের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় লেবাননে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বড় অগ্রগতি হয়েছে।’
পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা চালায়। পরে ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। এরপর ১২–১৩ এপ্রিল পাকিস্তানে দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও কোনো সমঝোতা হয়নি।
তবে দ্বিতীয় দফায় প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শেষে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে কাতার ও পাকিস্তান। সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশযাপনকেন্দ্রে এ সপ্তাহজুড়ে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা চলবে। আলোচনার লক্ষ্য থাকবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানো।
যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতায় আগেই পৌঁছেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এখন ৬০ দিনের সময়সীমা মাথায় রেখে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে আলোচনায় বসেছে দুপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন পর গতকাল সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক শহরে শুরু হয়েছে আলোচনা।
আলোচনার লক্ষ্য ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও লেবাননে যুদ্ধবিরতির মতো বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।
চলমান শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।
অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সঙ্গে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ সরকারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান ও কাতার। গতকালের আলোচনায় ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির। আলোচনায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানি উপস্থিত ছিলেন।







