জাতীয়

‘ঋণ করো ঘি খাও’ প্রবাদটিকে বিএনপি সিরিয়াসলি নিয়েছে: সংসদে হাসনাত

ডেস্ক

শেয়ারঃ

‘ঋণ করো ঘি খাও’ প্রবাদটিকে বিএনপি সিরিয়াসলি নিয়েছে: সংসদে হাসনাত- খবরের থাম্বনেইল ফটো

‘ঋণ করে ঘি খাওয়ার’ প্রবাদকে সরকারি দল বিএনপি খুব সিরিয়াসলি নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেছেন, তারা এটিকে এভাবে নিয়েছেন, ঋণ করো ঋণখেলাপি হও, তাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করো।


বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনের বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনে বাজেট আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঋণ খেলাপিদের সংসদ সদস্য পদ বাতিলে আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।


হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, প্রাচীন ভারতের একটা প্রবাদ আছে। এই যে আমাদের একটি সান্ধ্যকালীন সংসদ চলছে, আমাদের মধ্যে একটি আলস্য ঝেঁকে বসেছে। বিশ্রামের একটা আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। এরকম একটা বিশ্রামের সময়ে একজন বলেছিলেন, ঋণং কৃতা ঘৃতং পিবেত, যাবত জীবন সুখেং কিবেত। অর্থাৎ ঋণ করে প্রয়োজনে ঘি খাও, তার পরেও সুখে থাকো। ঋণ করো ঘি খাও, পরের ধনে পোদ্দারি করো। ঋণ করে ঘি খেয়ে জমিদারি করো, তাও ঋণ করো। এই প্রবাদটিকে সরকারি দলের কিছু সদস্য খুব সিরিয়াসলি নিয়েছেন। ঋণ করো ঘি খাও, তাও সুখে থাকো; এটাকে উনারা এভাবে নিয়েছেন— ঋণ করো ঋণ খেলাপি হও, তাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করো।


এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, জনগণের টাকা নিয়ে এই বিলাসিতা বন্ধ করতে হবে এবং ঋণ খেলাপিদেরকে ঋণ খেলাপি বলতে হবে। আমরা লজ্জা পাই, আমরা লজ্জা পাই একই সংসদ একসাথে শেয়ার করার জন্য। কারণ তারা জনগণের টাকা মেরে, জনগণের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে ঋণ খেলাপি হয়ে আবার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে আসে। এই ঋণ খেলাপিদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তারা যখন সংসদ সদস্য হয়ে নির্বাচিত হয়, নির্বাচিত হওয়ার পরেও যদি তারা ঋণ খেলাপি হয়, এমন একটি আইন প্রণয়ন করতে হবে তাদের সংসদ সদস্য পদ যেন বাতিল হয়।


বিশেষ পরিস্থিতিতে সংকটকালীন সময়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে স্বীকার করে অর্থমন্ত্রীর সামনে কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, গত বছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকা। ১১ মাসে অর্জিত হয়েছে ৪ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো। হাতে আছে আর এক মাস। ধরে নিচ্ছি ৪৮ হাজার কোটি টাকা, সেখান থেকে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। তার মানে আমাদের অর্জিত হচ্ছে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা এবং ৪০ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ চার লাখ কোটি টাকা।


হাসনাত বলেন, এই বাজেটে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৭৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পৃথিবীর সব দেশে, তাবৎ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রাজস্বের যে প্রবৃদ্ধি থাকে সেটি ১০ থেকে ১২ শতাংশ, আইডিয়াল একটা ফিগার। সরকারের কাছে এমন কী মেকানিজম রয়েছে, যে মেকানিজমের মধ্য দিয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ রাজস্ব নতুন করে আমরা সংগ্রহ করতে পারব?


‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি এনভায়রনমেন্ট ক্রিয়েট করা হয়েছে’— এমন দাবির যৌক্তিকতা খণ্ডন করে হাসনাত বলেন, ১০০ টাকার যদি আমি বাংলাদেশে ব্যবসা করি, আমাকে কর্পোরেট ট্যাক্স দিতে হয় সাড়ে ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকার মধ্যে আমার পকেটে থাকে আর ৭২.৫০ টাকা। এই সাড়ে ৭২ টাকার মধ্যে ডিভিডেন্ড ট্যাক্স সারচার্জসহ দিতে হয় ৪০%। আমার পকেটে তখন থাকে সাড়ে ৪৩ টাকা। আমি ১০০ টাকা ইনকাম করি, আমার সর্বসাকুল্যে ট্যাক্স চলে যায় সাড়ে ৫৬%।


হাসনাত বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে ৯.৪ শতাংশ। আমরা যদি খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ধরতে যাই— সেটা ১২ শতাংশেরও বেশি। এই বাজেটে নির্ধারণ করা হয়েছে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশ রিডিউস করা হবে। পৃথিবীর সব দেশে, সব বাজেটে, সব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার স্বীকৃত মাধ্যম হচ্ছে দুটি— উচ্চ হারে সুদ নির্ধারণ করা অথবা গভমেন্ট এক্সপেন্ডিচার কমিয়ে নিয়ে আসা।


এনসিপি সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের একটা অর্থবছরে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার নির্ভরশীল অর্থনীতি রেখে কীভাবে মূল্যস্ফীতিকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নিয়ে আসব— এই যে স্ববিরোধী অবস্থান, এই জায়গাটা আমাদের কাছে আসলে স্পষ্ট না। আপনি একই সাথে বলছেন, আপনি মাছ মুচমুচে করে ভাজবেন, আবার একই সাথে বলছেন আপনি তেলটা কম দিবেন। এই যে স্ববিরোধী অবস্থান, এটা আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হতে হবে।


সম্পর্কিত খবর