বাণিজ্য
ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরল জ্বালানি তেলের দাম

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পর্যায়ে (২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন) নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর এবং কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করায় বাজারে এই বড় পতন দেখা দিয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময়) আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২২ ডলার বা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৫২ ডলারে নেমে আসে। ইরান যুদ্ধ চলাকালে এই পর্যায়ে এই তেলের দর ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৮ ডলারে উঠেছিল।
অন্যদিকে, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ০২ ডলার বা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়ায়, যা গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ব্রেন্ট এবং ডব্লিউটিআই উভয় বেঞ্চমার্ক প্রতি ব্যারেল প্রায় ৬৫-৭০ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।
মূলত, গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তেলের দাম দ্রুত কমেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এখন আবার চলাচল শুরু করেছে।
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট একটি ফোরামে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং ওমান ও জাতিসংঘের বিশেষ উদ্ধার পরিকল্পনার অধীনে গত ২৪ ঘণ্টায় এই রুট দিয়ে রেকর্ড ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছে।
তবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে, কারণ প্রণালিটি মাইনমুক্ত করতে হবে বলেও জানান তিনি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহের গতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে তৈরি হওয়া ঘাটতির উদ্বেগ কেটে গেছে, এতে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স







