জাতীয়
দেশে এত ব্যাংক নিয়ে প্রশ্ন, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব

দেশে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্যাংক রয়েছে বলে মনে করেন নোয়াখালী-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘টাকা নাই, ব্যাংক লুট হয়ে গেছে। বাংলাদেশে এত ব্যাংকের দরকার কী? এত ব্যাংকের দরকার নেই। এমপি হলেই তার একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই তার একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে—এই প্র্যাকটিস বন্ধ করতে হবে। ব্যাংক কমিয়ে ফেলতে হবে। জনগণের টাকা দিয়ে ব্যাংকের ঘাটতি পূরণ করতে হয়।’
রোববার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা রাখতে না পেরে অনেকে ঘরে টাকা রাখে। স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার সময় টাকা ফেলে চলে গেছে, ঘরে ঘরে টাকা আছে। তাই ৫০০ ও ১,০০০ টাকার নোট বাতিল করে দিয়ে দুই মাসের মধ্যে টাকা জমা দিতে বলতে পারি। তাহলে ট্যাক্স দিয়ে টাকা বৈধ করতে পারবে, সেই টাকা বিনিয়োগ হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে যাবে।’
বিএনপির এই এমপি বলেন, ‘আমাদের আরেকটি সমস্যা হলো মানি লন্ডারিং। আমি আইনজীবী হিসেবে বলছি, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত মানি লন্ডারিংয়ে যত টাকা হয়েছে, আমরা শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছি; কিন্তু কোনো টাকা ফিরে আসেনি, আসার সুযোগও নেই। টাকা সিস্টেমে ঢুকে যায়। মানির একটা ক্যারেক্টার আছে, মানি মুভ করে—‘মানি সেফ দেন মানি মেক মানি’। যেখানে মানি নিরাপদ মনে করবে, সেখানে মানি থাকবে। আমাদের মা-বোনেরা সারা বছর আলমারিতে স্বর্ণ ও টাকা রাখেন, কারণ সেখানে তারা নিরাপদ মনে করেন। সুতরাং বাংলাদেশে এই সিস্টেম পরিবর্তন করা দরকার।’
খোকন বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে আইন নেই, তবু সেখানে টাকা যায়। দুবাইতে আইন নেই, কানাডায় আইন নেই, থাইল্যান্ডে আইন নেই—আমরা কেন সিস্টেম পরিবর্তন করি না? তাহলে দেশের মানুষ টাকা দেশে রাখাকে নিরাপদ মনে করবে। বিদেশ থেকে টাকাও দেশে চলে আসবে। আমার মনে হয়, আমাদের সিস্টেম পরিবর্তন করা উচিত।’
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব সময়ই ঘাটতি বাজেট হয়। তবে এই বাজেট আগামী এক বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিশন। এই বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার অনেক বিষয় রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সাধারণ যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে। সার্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। লুটপাট ও ধ্বংসস্তূপের পর সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মাথায় অর্থমন্ত্রী এই বাজেট তৈরি করেছেন।’
বিশিষ্ট এই আইনজীবী নেতা বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নে আমাদের কয়েকটি সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি। কোটি কোটি মানুষকে এবং যুবকদের বেকার রেখে আমরা আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আশা করতে পারি না। আমাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।’







