আন্তর্জাতিক
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার মঙ্গলবার দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত দেশের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনার ঘোষণা করবেন।
এই পরিকল্পনায় ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
রাশিয়াসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিয়ে স্টারমারের লেবার সরকারের কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর এ ঘোষণা আসছে।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে (ডিআইপি) ঘিরে বিরোধের জেরে চলতি মাসের শুরুতে দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তাঁদের একজন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি, বলেন, এ পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যকে ‘আরও কম নিরাপদ’ করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করছে।
এই পদত্যাগগুলো স্টারমারের দুর্বল হয়ে পড়া নেতৃত্বেরই ইঙ্গিত দেয়।
গত সোমবার তিনি ঘোষণা দেন, লেবার পার্টির সংসদ সদস্যরা প্রবীণ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতি সমর্থন দেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন।
৫৬ বছর বয়সী সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম লেবার পার্টির নেতৃত্বে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
স্টারমার আশা করছেন, ১০ বছরের প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনা তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের অন্যতম অংশ হয়ে থাকবে। সোমবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এ পরিকল্পনাকে ‘পরিবর্তন আনতে সক্ষম বিনিয়োগ’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি দীর্ঘমেয়াদে আমাদের দেশকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখবে।’
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী চার বছরে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ৫০০ কোটির বেশি পাউন্ড (৬৬০ কোটি ডলার) ব্যয় করা হবে।
মন্ত্রণালয় জানায়, এ অর্থে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় মাইন শনাক্তকারী ড্রোন, ছোট আকারের কৌশলগত ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোন এবং কম খরচের একমুখী হামলার ‘কামিকাজে’ ড্রোনসহ বিভিন্ন সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে।
ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধযন্ত্রের ব্যবহার কতটা বেড়েছে, তা সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিহত করতে ইউক্রেন প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ ড্রোন ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, ইরানে সংঘাতের চরম পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০০টি আক্রমণাত্মক ড্রোন উৎক্ষেপণ করা হয়।
স্টারমার অঙ্গীকার করেছেন, আগামী বছর থেকে প্রতিরক্ষা ব্যয় দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ২০২৯ সালে সম্ভাব্য পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি জয়ী হলে তা ৩ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এরপর ২০৩৫ সালে তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
‘হাইব্রিড’ যুদ্ধজাহাজ
এ প্রতিশ্রুতি এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ন্যাটো মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
সোমবার স্টারমার ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
১১ জুন জন হিলি পদত্যাগ করেন। স্টারমারকে লেখা তাঁর পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, ডিআইপি অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৬৮ শতাংশে উন্নীত হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সহযোগী জানান, পরিকল্পনায় প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩ শতাংশে উন্নীত করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস এ পরিকল্পনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করেছেন। এতে মোট বরাদ্দ ১ হাজার ৩৫০ কোটি পাউন্ড থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ কোটি পাউন্ডে উন্নীত হয়েছে।
তবে এই অর্থও সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের আগে নির্ধারিত ২ হাজার ৮০০ কোটি পাউন্ডের চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নস গত মাসে হিলির পরই পদত্যাগ করেন। তখনকার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে তিনি ‘স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন’ বলে সমালোচনা করেন।
তাঁর মতে, এটি ভবিষ্যতের যুদ্ধের পরিবর্তে ‘গত যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে সোমবার সরকার ঘোষণা দিয়েছে, ২০৩০-এর দশকের শুরু থেকে যুক্তরাজ্য তাদের পুরোনো ছয়টি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজের পরিবর্তে অন্তত ছয়টি ‘হাইব্রিড’ যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করবে।
এসব জাহাজে মানবচালিত ও চালকবিহীন—উভয় ধরনের সক্ষমতার সমন্বয় থাকবে।






