জাতীয়

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: তদন্ত শেষ, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা

ডেস্ক

শেয়ারঃ

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: তদন্ত শেষ, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বর্তমানে তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে।


বুধবার (৮ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিওচিত্র, আলোকচিত্র, নথিপত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি পর্যালোচনার পর তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত শেষ করেছে। এখন আইনি ও কারিগরি যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।


মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার, ডিবি কর্মকর্তা হারুন এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ২৮ থেকে ৩০ জন হতে পারে।


চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি শেষে আগামী ২১ জুলাই বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেলে প্রসিকিউশন দ্রুত আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) প্রস্তুত করে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, অভিযোগপত্রে তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনার প্রস্তুতি চলছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার আগে সম্ভাব্য আসামিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে না।


২০১৩ সালের ৫ মে মাসে শাপলা চত্বর হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের এই মামলার তদন্তে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ভিডিওচিত্র, আলোকচিত্র, সংবাদ প্রতিবেদন, সরকারি নথি, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে তদন্ত সংস্থা। এর আগে একাধিকবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে যাদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয় বিবেচনা না করেই আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি বলেছিলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা—যার বিরুদ্ধেই পর্যাপ্ত প্রমাণ মিলবে, তাকেই অভিযুক্ত করার নীতি অনুসরণ করা হবে।


সম্পর্কিত খবর