জাতীয়
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, চরাঞ্চলে ৬ হাজার মানুষ পানিবন্দী

ছবি : সংগৃহীত
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিস্তার পানি দোয়ানি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তীরবর্তী এলাকায় আবারও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে সন্ধ্যা ৬টায় নদীটির পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে সকালে সেখানে পানিপ্রবাহ ছিল বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে।
দেশে এবং উজানে তিস্তা অববাহিকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে নদীটিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আজ জানায়, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলাগুলোর নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
তিস্তার পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উত্তরের পাঁচ জেলা রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারী নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এতে চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও নদীর মধ্যবর্তীতে বসবাস করা চরের প্রায় ৬ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব।
তিনি বলছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও বাড়বে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে। তাই চরের মানুষদেরকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৮ মিটার। বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার হওয়ায় পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীতে পানির চাপ বাড়ছে। এতে চরাঞ্চলের নিচু এলাকা, ফসলি জমি ও কাঁচা রাস্তায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পানি আরও বাড়লে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিস্তা তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনেক অংশ সংস্কার না করায় পানি বৃদ্ধি পেলেই ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের কারণে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না।
চর রাজপুরের বাসিন্দা ওমর আলী বলেন, দুপুরের পর থেকে তার বাড়িতে পানি উঠেছে। পানি আরও বাড়ছে,ু তাই ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে।
চর বাগেরহাটের বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, পানির চাপ বাড়তে থাকায় ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।
অন্যদিকে, সোমবারের তথ্য অনুযায়ী দেশের চারটি নদী স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো, হলো সুরমা নদীর ছাতক, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা স্টেশন।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বাসসকে বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া নদীতে না নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।







