জাতীয়
রমজানে বইমেলা আয়োজন পুনর্বিবেচনার জন্য তারেক রহমানের কাছে ‘প্রকাশক ঐক্য’র খোলা চিঠি

পবিত্র রমজান মাসে অমর একুশে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’ বিএনপি চেয়ারপারসনের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তারেক রহমান-এর কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ১৪ জন প্রকাশকের স্বাক্ষরযুক্ত ওই চিঠিতে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান মাসে বইমেলা শুরুর সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে প্রকাশকরা বলেন, রোজার সময় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে মেলা পাঠকশূন্য হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশক মনে করছেন—রমজান মাসে মেলায় অংশগ্রহণ করা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি ডেকে আনবে। ইতোমধ্যে মূলধারার তিন শতাধিক প্রকাশক মেলায় অংশ নিতে অপারগতার কথা জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশকরা আরও জানান, গত দেড় বছরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা, কাগজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকাশনা শিল্প চরম সংকটে রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত দুই মাস ছাপাখানাগুলো ব্যস্ত থাকায় নতুন বই প্রকাশ কার্যত ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রমজান মাসে বইমেলা আয়োজন করলে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়, প্রকাশকদের উদ্বেগ ও বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে কেন বাংলা একাডেমি মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। তবে প্রকাশকরা স্পষ্ট করেছেন—তারা বইমেলা বর্জনের পক্ষে নন; বরং একটি সফল, অংশগ্রহণমূলক ও মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন চান।
এ প্রেক্ষাপটে তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, রমজান ও নির্বাচন-পরবর্তী বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বইমেলাটি ঈদের পর আয়োজন করা হোক। নতুন সরকারের কাছে তারা দুটি দাবি জানিয়েছেন—প্রথমত, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্ধারিত মেলা স্থগিত করা; দ্বিতীয়ত, ঈদের পর উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ণাঙ্গ বইমেলার আয়োজন করা।
চিঠিতে প্রকাশকরা আশা প্রকাশ করেন, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রকাশনা শিল্পকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং অমর একুশে বইমেলার ঐতিহ্য ও মর্যাদা সমুন্নত থাকবে।








