আন্তর্জাতিক

মার্কিন চাপের মুখে ২ হাজারের বেশি বন্দিকে ক্ষমার ঘোষণা কিউবার

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

মার্কিন চাপের মুখে ২ হাজারের বেশি বন্দিকে ক্ষমার ঘোষণা কিউবার- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ইস্টার উপলক্ষে ‘মানবিক’ পদক্ষেপ হিসেবে ২ হাজার ১০ জন বন্দিকে ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছে কিউবা সরকার। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে কিছু বন্দিকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল হাভানা।


খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।


কিউবার প্রেসিডেন্সের দপ্তর জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যে রয়েছে যুবক, নারী ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ব্যক্তিরা। এরা আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে নির্ধারিতভাবে মুক্ত হবেন। বিদেশি ও বিদেশে বসবাসকারী কিউবা নাগরিকও এতে অন্তর্ভুক্ত, তবে ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।


এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি সংকটে থাকা কিউবায় একটি রুশ ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের অনুমতি দিয়ে কিউবার ওপর থেকে তেল অবরোধ শিথিল করেছেন।


মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কিউবার কমিউনিস্ট শাসনে সংস্কার এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে।


কিউবার প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে যুবক, নারী ও ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিও রয়েছেন। যাদের সাজার মেয়াদ আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তাদেরই আগাম মুক্তির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।


এই তালিকায় বিদেশি এবং বিদেশে বসবাসরত কিউবান নাগরিকরাও রয়েছেন। তবে মুক্তিপ্রাপ্তদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।


এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানায়, দণ্ডিতদের অপরাধের ধরন, কারাগারে তাদের আচরণ, সাজার উল্লেখযোগ্য অংশ ভোগ এবং তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এর আগে ভ্যাটিকানের প্রতি ‘সদিচ্ছা’র নিদর্শন হিসেবে কিউবা সরকার ৫১ জন বন্দি মুক্তির কথা জানিয়েছিল। তার কয়েক সপ্তাহ পরই নতুন এই ঘোষণা এলো।


‘হোলি সি’ অনেকদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছে।


কিউবার প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানায়, ২০১১ সাল থেকে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বন্দিদের ক্ষমা করা হলো। এতে মোট ক্ষমাপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ১১ হাজারেরও বেশি।


বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হোলি উইক’ উপলক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশটির ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার একটি প্রচলিত প্রথা এবং বিপ্লবের মানবিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন।


সরকার জানিয়েছে, খুন, যৌন নিপীড়ন, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ, চুরি, অবৈধভাবে গবাদিপশু জবাই এবং কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িতরা এই ক্ষমার আওতায় থাকবেন না।


এই ঘোষণার সময়ই গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়া জানিয়েছে, তারা কিউবায় দ্বিতীয় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার পাঠাবে।


মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউবান স্টাডিজ বিভাগের প্রধান মাইকেল বুস্তামান্তে বলেন, ধর্মীয় ছুটির আগে সরকারের এমন পদক্ষেপ নতুন কিছু নয়।


তিনি এএফপিকে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের একটি রুশ জাহাজ এবং সম্ভবত আরও একটি- প্রবেশের অনুমতির সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে প্রশ্ন উঠতে পারে।


তিনি আরও বলেন, ‘এটা ভাবা অযৌক্তিক নয় যে, এটি উভয় সরকারের মধ্যকার আলোচনার অগ্রগতির একটি ইঙ্গিত। হয়তো ধীরে, তবে এগোচ্ছে। কোন দিকে- তা এখনো স্পষ্ট নয়।’


তিনি যোগ করেন, ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা গেলে তাদের রাজনৈতিক গুরুত্ব কতটা, সেটিও বোঝা যাবে।


সম্পর্কিত খবর