জাতীয়
২০২৫ সালের নীতিমালা বাতিলের দাবি খুচরা সার বিক্রেতাদের

দেশজুড়ে ৪৪ হাজার নিবন্ধিত খুচরা সার বিক্রেতা ২০২৫ সালের বৈষম্যমূলক নীতিমালা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন খুচরা সার বিক্রেতাদের সংগঠন ‘খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’।
মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন, ‘নতুন নীতিমালা আমাদের দীর্ঘদিনের বৈধ ব্যবসা বন্ধ করে জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে। দীর্ঘদিনের ব্যবসায় আমাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ কৃষকদের কাছে বকেয়া রয়েছে। হঠাৎ করে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে এই অর্থ আর আদায় সম্ভব হবে না। পাশাপাশি আমাদের অনেকেই ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, ফলে আয় বন্ধ হলে আমরা ঋণের বোঝায় পড়ে ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারি।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে সরকারি অনুমোদন ও কার্ডের মাধ্যমে আমরা খুচরা বিক্রেতারা কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ করে আসছি। দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে আমরা দেশের প্রায় ৫ কোটি কৃষকের কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে সার পৌঁছে দিয়ে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা বাকিতে সার দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করেছি।’
বিক্রেতারা বলেন, ‘তবে ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা চালুর মাধ্যমে এই কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধের মুখে পড়েছে। এই নীতিমালার কারণে ৪৪ হাজার অনুমোদিত কার্ডধারী বিক্রেতার লাইসেন্স কার্যত বাতিল হয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের ও সংশ্লিষ্ট লাখো কর্মচারী ও পরিবারের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে।’
এর আগে বিষয়টি সমাধানের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানববন্ধন এবং প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন বিক্রেতারা। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে বক্তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দেশের কৃষকদের সেবা দিয়ে আসলেও বর্তমানে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাদের বিকল্প কোনো আয়ের উৎস নেই। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় ২০২৫ সালের নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করে তাদের বৈধ কার্ড বহাল রেখে পুনরায় ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।







