খেলাধুলা
দিয়াজ ও কেনের গোলে রিয়ালকে পরাজিত করেছে বায়ার্ন

লুইস দিয়াজ ও হ্যারি কেনের গোলে বায়ার্ন মিউনিখ মঙ্গলবার রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানের গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে।
ম্যাচের ১৬ মিনিট বাকি থাকতে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পেরে উঠেনি।
প্রথমার্ধে দারুণ নৈপুণ্য দেখায় ভিনসেন্ট কোম্পানির দল, যাদের এই মৌসুমে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে ধরা হচ্ছে। বেশ কিছু গোলের সুযোগ তৈরী করেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি । দিয়াজের গোলে বায়ার্ন অবশ্য এগিয়ে ছিল, পরে বিরতির পর কেন আরেকটি গোল যোগ করেন। তবে ফরাসি তারকা এমবাপ্পের গোল আলভারো আরবেলোয়ার দলকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছে।
এই ম্যাচটি ছিল ইউরোপীয় ক্লাসিক। এই দুই শক্তিশালী দল এর আগে প্রতিযোগিতায় ২৯ বার মুখোমুখি হয়েছে।
বায়ার্ন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। কনরাড লাইমারের জোরালো শট পোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। শুরু থেকে রিয়ালের কৌশল দেখে বোঝা যাচ্ছিল তারা আক্রমণের লক্ষ্য নিয়েই স্পেনে এসেছে। মাদ্রিদের বিপক্ষে টানা নয় ম্যাচ জয়হীন থাকার পর বায়ার্ন নিজেদের প্রমানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল।
ডিফেন্ডার ডায়ট উপামেকানোর একটি সহজ সুযোগ নষ্ট হওয়ায় বায়ার্ন এগিয়ে যেতে পারেনি। কেনের পাস থেকে তিনি কাছ থেকে শট নিতে গিয়ে ব্যর্থ হন। ম্যাচে বায়ার্ন বলের দখল ধরে রেখে আধিপত্য দেখায়, তবে রিয়াল এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গতির ওপর ভর করে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে। বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার দুজনের শটই রুখে দেন।
১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার থিয়াগো পিটার্চের একটি ভুল পাসে রিয়ালের রক্ষণভাগ প্রায় বিপদে পড়েছিল, কিন্তু গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন দুর্দান্তভাবে সার্জি গ্যানাব্রির শট ঠেকান।
দারুন এক সমন্বিত আক্রমণ থেকে বায়ার্ন প্রথম গোল আদায় করে নেয়। গ্যানাব্রি, কেন ও ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের কাছ থেকে বল আসে দিয়াজের কাছে। ৪১তম মিনিটে বায়ার্নকে এগিয়ে দিতে দিয়াজ কোন ভুল করেননি।
গোড়ালির সমস্যার কারণে কেনের খেলা নিয়ে সন্দেহ ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওলিসের বাড়ানো বল থেকে কেন বক্সের প্রান্ত থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এটি ছিল এই মৌসুমে তার ১১তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোল এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিযয়ে ৪৯তম।
ভিনিসিয়াস একটি ভালো সুযোগ পেলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি। নয়্যার আবারও এমবাপ্পের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন।
জুড বেলিংহাম বদলি হিসেবে নামার পর রিয়াল খেলায় গতি বাড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের ক্রস থেকে এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমান।
শেষদিকে কেনের একটি ভলি বাইরে গেলে বায়ার্ন ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। আগামী বুধবার দ্বিতীয় লেগের জন্য মিউনিখে ঘরের মাঠে বায়ার্ন নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতেই মাঠে নামবে।







