সারাদেশ

চা-শ্রমিকদের পিএফ বকেয়া শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে, অনিশ্চয়তায় হাজারো পরিবার

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

চা-শ্রমিকদের পিএফ বকেয়া শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে, অনিশ্চয়তায় হাজারো পরিবার- খবরের থাম্বনেইল ফটো

চাকরিজীবনের শেষে প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) যেখানে শ্রমজীবী মানুষের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যতের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিবেচিত, সেখানে বাংলাদেশের চা-শিল্পের হাজারো শ্রমিক এখন নিজেদের সঞ্চিত অর্থ নিয়েই চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জমা না হওয়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের বকেয়ার পরিমাণ এখন শতকোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি।


চা-শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের বেতনের একটি অংশ নিয়মিতভাবে পিএফ তহবিলে জমা হওয়ার কথা থাকলেও ৫৮টি চা-বাগানে দীর্ঘদিন ধরে তা ঠিকভাবে জমা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অবসরের পর বা জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের সঞ্চিত অর্থ পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন শ্রমিকরা।


চা-শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং বাগান কর্তৃপক্ষের আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মিলিয়ে মোট ১৫ শতাংশ অর্থ পিএফ তহবিলে জমা হওয়ার কথা। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যয় হিসেবে আরও ১৫ শতাংশ জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।


তবে বাস্তবে অনেক বাগান এই অর্থ নিয়মিত জমা না দেওয়ায় বড় অঙ্কের বকেয়া তৈরি হয়েছে। ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৫৮টি চা-বাগানে পিএফ বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বাগানের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।


ইমাম-বাওয়ানী, লোবাছড়া, হোসেনাবাদ, দলই, রাজনগর ও মুরইছড়া চা-বাগানসহ কয়েকটি বাগানের বকেয়া মামলার আওতায় রয়েছে, যার মোট পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। তবে বাকি ৫২টি বাগানের বকেয়ার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা না গেলেও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, সব মিলিয়ে তা শতকোটি টাকার বেশি।


চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পঙ্কজ কুন্দ বলেন, “শ্রমিকদের আয় এমনিতেই কম। তার ওপর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা তাদের জীবনে বড় সংকট তৈরি করবে।”


অন্যদিকে, বকেয়া থাকা একটি চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লোকসান ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপের কারণে সময়মতো অর্থ জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ধীরে ধীরে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


এ বিষয়ে ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রক মহব্বত হোসাইন জানান, ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বকেয়া আদায়ে বাগানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, তাগিদপত্র প্রদান এবং পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তার ভাষায়, কিছু বাগান থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে এবং বকেয়া আদায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই অনিশ্চয়তা দূর হবে না। ফলে জীবনের শেষভাগে এসে নিজেদের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন চা-শ্রমিকরা।


সম্পর্কিত খবর