ক্যাম্পাস
একদশক পেরোলেও সংকট যেন ছাড়ছেই না জবি ফিল্ম বিভাগের

সফলতা ঈর্ষাণিত করলেও একদশক পেরিয়েও সংকট যেন ছাড়ছেই না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি অন্যতম বিভাগ ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন। এক দশক পেরোলেও নানামুখী সংকটে বিপর্যস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিভাগটি। এ বিভাগের ঝুলিতে রয়েছে নানান ইতিহাসের গল্প। সম্প্রতি তারা চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সরকার হতে এক লক্ষ টাকা বাজেট পেয়েছে বলে জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাঁচটি ব্যাচের জন্য মাত্র চারটি ক্লাসরুম। অন্যদিকে নির্দিষ্ট কোনো সেমিনার কক্ষ নেই, অফিস কক্ষের এক অংশ সেমিনার হিসেবে ব্যবহার করছে। সেখানে রয়েছে ২ থেকে ৩টি আলমিরা, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন একাডেমিক বই। ২০০ শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন। আর দুজন রয়েছে স্টাডি লিভে। নেই কোনো ল্যাব, এডিটিং প্যানেল, ক্যামেরা এবং ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লাসরুমের সংকটে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। এক ব্যাচের ক্লাস শেষ হওয়ার পর অন্য ব্যাচ ক্লাসরুমে প্রবেশ করে। লাইব্রেরীর পর্যাপ্ত সুবিধা নিতে পারেনা তারা। তীব্র শিক্ষক সংকটে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত একাডেমিক নানা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
এ সম্পর্কে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের অধ্যাপক জনাব জুনায়েদ আহমদ হালিম বলেন, আমাদের ভালো মানের স্টুডিও বা সরঞ্জামের সংকট থাকলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আমরা কোনো কমতি রাখছি না। আমাদের শিক্ষকরা অত্যন্ত দক্ষ এবং প্রয়োজনে আমরা বাইরে থেকেও বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নিয়ে আসছি। এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আমাদের শিক্ষার্থীরা দারুণ কাজ করছে। সম্প্রতি আমাদের শিক্ষার্থী তানহা তাবাসসুমের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘হোয়াট ইফ’ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে। এছাড়া আমাদের শিক্ষার্থীরা সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও ফেলোশিপের সুযোগ পাচ্ছে। সংকট নিয়েই আমরা চলছি।
বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের বিভাগে ক্লাসরুম ও শিক্ষক সংকটের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো ল্যাব বা এডিটিং প্যানেল না থাকায় আমরা হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছি না; ক্যামেরা ও লাইটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামেরও তীব্র অভাব রয়েছে। এছাড়া রফিক ভবনে বরাদ্দ পাওয়া কক্ষটি এক বছরেও সংস্কার করা হয়নি। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান চাই।
এ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদ আল হাসান বলেন, খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। সবাইকে ল’ ডিপার্টমেন্টের পানির কল ব্যবহার করতে হয়। সেমিনারের সমস্যা, ডিপার্টমেন্টের সেমিনারে নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ বই, নেই পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট।
সার্বিক বিষয়ে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো: নিসতার জাহান কবীর বলেন, একটি ফিল্ম বিভাগের জন্য এডিট প্যানেল বা ল্যাব অপরিহার্য হলেও আমাদের বর্তমানে ক্লাসরুম ও ল্যাবের সংকট রয়েছে। তবে রফিক ভবনে বরাদ্দ পাওয়া বড় পরিসরটি আমরা দ্রুতই হল হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলব। এছাড়া সুপেয় পানির সমস্যাটিও দ্রুত সমাধানের প্রক্রিয়ায় আছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়ে উপাচার্য মহোদয় আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তাই আশা করছি দ্রুতই নতুন শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমাবদ্ধতার মাঝেও আমাদের শিক্ষার্থীদের অর্জন আশাব্যঞ্জক। তাদের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে, আমাদের ফিল্ম সরকারি অনুদান পাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা বেকার থাকছে না। এই সামান্য অনুপ্রেরণাই তাদের অনন্য করে তুলছে। আমার বিশ্বাস, আগামী দুই বছরে এই বিভাগ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।







