ক্যাম্পাস
ঢাবির কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলে গেস্টরুমের অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের গেস্টরুম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ২০২৪-২৫ সেশনের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তরা হলেন লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউটের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী আল মোসাদ্দেক, খালিদ আব্দুল্লাহ, মোহাম্মদ আনাস, সাবিক ইসলাম, ইব্রাহিম, মনিরুল। তারা সবাই লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউটের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গেস্টরুমে উপস্থিত থাকা প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, গত চার দিন ধরে তাদের হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর নিয়মমাফিক হয়রানি চলছে। প্রতিদিন রাত ১১:৩০টা থেকে শুরু করে গভীর রাত ২:০০টা বা ২:৩০টা পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রাখা হয়। সিনিয়ররা একে 'ম্যানার শেখানো' বললেও বাস্তবে এটি চরম মানসিক হয়রানি পর্যায়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ৪৩তম ব্যাচের মোসাদ্দেক নামের এক শিক্ষার্থী নারী সহপাঠীদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের নারী সহপাঠীরা মূলত 'সিনিয়রদের খাবার'। এই ধরণের বক্তব্য যৌন হয়রানি এবং ধর্ষণের মানসিকতার পরিচায়ক। এই বক্তব্য আমার কাছে অনেক খারাপ লেগেছে।
ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো হয় যে, কথা না শুনলে তাদের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যারা আরও 'ভয়ংকর'। শিক্ষার্থীদের জোর করে রাত জেগে সিনিয়রদের সামনে সালাম দেওয়া এবং আত্মপরিচয় দেওয়ার তথাকথিত শিষ্টাচার পালন করতে বাধ্য করা হয়। সাধারণত ১০০৩ ও ১০০৪ নম্বর রুমে এসব ঘটনা ঘটে। তবে সর্বশেষ গত রাতে হলের ডাইনিং রুমে প্রকাশ্যেই এই কার্যক্রম চলেছে।
গতকাল রাতে ডাইনিং রুমে হওয়া গেস্টরুম নিয়ে সেখানে উপস্থিত থাকা আরেক শিক্ষার্থী বলেন, রাত ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত চলে। সেখানে ৪৩তম ব্যাচের পাশাপাশি ৪২তম ব্যাচ এবং তারও উপরের ব্যাচের সিনিয়ররা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ছাত্রদলের পরিচয়ধারী ৪ থেকে ৬ জন বড় ভাই উপস্থিত ছিলেন। তারা নবীনদের সমস্যার কথা জানতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান হিসেবে "ইমিডিয়েট সিনিয়রদের" কথা শোনার কথা বলেন।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আনাস বলেন, এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না, তাই কিছু বলতে পারবো না। আমি টিউশন থেকে আসি ১২টার পরে।
আরেক অভিযুক্ত ইব্রাহিম বলেন, আমরা সবাইরে ডেকে ছিলাম এটা সত্যি। সবার সাথে সবার পরিচিতি পর্ব হয়েছে। এটা হোস্টেলে আগে থেকেই ছিলো, আমরাও আমাদের সিনিয়রদের সাথে বসেছিলাম। কিন্তু সেখানে আমরা গেস্টরুমের কোনো কালচার ব্যবহার করি নি।
অভিযুক্ত আনাসের গেস্টরুমের বিষয়ে উক্ত মন্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, ও হয়তো বিষয়টা এড়িয়ে যেতে পারে কিন্তু আমি তো কোনো ভুল কাজ করি নি।
অভিযুক্ত আল মোসাদ্দেকের ফোনে চেষ্টা করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
ড. কুদরত-ই-খোদা হোস্টেল শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাথে সংযুক্ত। এমন ঘটনা সম্পর্কে কোন কিছু জানেন কিনা এবিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের সহ-সভাপতি মো. আহসান হাবীব ইমরোজ বলেন, আমি এ ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছি। এ বিষয়ে ডাকসু ও হল সংসদ আজকে ভিসির সাথে সাক্ষাৎকার করে জবাবদিহি করবে। আমি নিজে হোস্টেলে গিয়ে খোঁজ নিবো। এমন ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে চলতে দেওয়া হবে না৷
এ বিষয়ে ড. কুদরত-ই-খোদা হোস্টেলের ওয়ার্ডেন ড. মো. ফরহাদ আলী বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত নই।








