ক্যাম্পাস

নারী নিরাপত্তা ও বহিরাগত নিয়ন্ত্রণসহ ১০ দাবিতে যবিপ্রবিতে স্মারকলিপি

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

নারী নিরাপত্তা ও বহিরাগত নিয়ন্ত্রণসহ ১০ দাবিতে যবিপ্রবিতে স্মারকলিপি- খবরের থাম্বনেইল ফটো

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে ‘উন্নত মমশির’ ক্লাব। এসব দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা।


শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে প্রক্টরের অফিসে এ স্মারকলিপি জমা দেন তারা।


স্মারকলিপিতে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কার্যকর সিসিটিভি মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।


এ ছাড়া ইভটিজিং, হয়রানি ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে বেপরোয়া ও উচ্চগতির মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন ভিডিও ধারণ, টিকটকসহ অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।


স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ক্যাম্পাস মনিটরিং ও নিরাপত্তা তদারকি জোরদার, নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং তাদের দায়িত্ব পালনের কার্যক্রম তদারকি ও মূল্যায়নের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, হয়রানি প্রতিরোধ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণের দাবি জানানো হয়।


জানা যায়, শুক্রবার (৭ আগস্ট) ক্যাম্পাসে বহিরাগত কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তরা হলেন আড়ারদাহ গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের ছেলে সুজন, একই গ্রামের ইতালি প্রবাসী বাবুর ছোট ভাই আব্দুর রহমান, ফুলসরা গ্রামের হাসিবসহ নাম না জানা আরো কয়েকজন।


এ বিষয়ে ‘উন্নত মমশির’ ক্লাবের সভাপতি আল শাহরিয়ার রাফিদ বলেন, “বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমাদের বোনদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করেছে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। এতে আমাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে। প্রক্টর আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, এ বিষয়ে আজকের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


রসায়ন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈমা খান বলেন, “গতকাল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে মেয়েদের ইভটিজিং করেছে। তারা কুদৃষ্টিতে তাকিয়েছে, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালিয়েছে এবং ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে আমরা প্রক্টরের কাছে এসেছি, যাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়। আমাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন বেপরোয়া আচরণ করার সাহস না পায়।”


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোঃ হামিদুর রহমান বলেন, “ইতোমধ্যে ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। অভিযুক্ত বহিরাগতদের তাদের অভিভাবকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধান করা হবে।”


তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে আমরা চৌগাছা থানার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে আনসার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।”


সম্পর্কিত খবর