ক্যাম্পাস
শেকৃবিতে প্রথমবারের মতো বিসিএস ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্তদের সম্মাননা

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) প্রথমবারের মতো ৪৫তম থেকে ৪৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও গেট টুগেদার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ক্যাডারস রিসেপশন অ্যান্ড গেট টুগেদার ২০২৬’ শীর্ষক এ আয়োজনে সুপারিশপ্রাপ্ত ৮০ জন ক্যাডার, তাঁদের অভিভাবক ও অতিথিসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সেমিনার কক্ষে ‘অনারিং দ্যা বিসিএস ক্যাডারস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্যাডারদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ছিল পরিচিতি, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশ্নোত্তর ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স পর্ব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহেদুর রহমান, শেকৃবির এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী, টিএসসির পরিচালক অধ্যাপক মো. আক্তার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশাবুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বাসেডর। তোমরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামকে বিশ্বের দরবারে উন্মোচিত করবে তোমাদের কষ্টার্জিত মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে।’
তিনি বলেন, বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষায় যোগ্যতা ও মেধার বিকল্প নেই। ২০০৮ সাল থেকে বিসিএস পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীর বাড়ি কোথায় বা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে এ ধরনের বিষয় বিবেচনার সুযোগ নেই। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত শেকৃবির সাবেক শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয় দেন, অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় ক্যাডাররা নিজেদের মধ্যে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। সাম্প্রতিক ৪৭তম বিসিএসে লাইভস্টক ক্যাডারে কোডসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ইন্টার্যাকটিভ সেশন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিসিএস পরীক্ষা ও ক্যাডার হওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান। সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁদের অভিজ্ঞতার আলোকে বিসিএস প্রস্তুতি, লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভাসহ ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
আয়োজকদের অন্যতম তরিকুল ইসলাম সৈকত বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিসিএস ক্যাডারদের সম্মাননা দেওয়ার এ ধরনের আয়োজন থাকলেও শেকৃবিতে এর প্রচলন ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিএসসির পরিচালক অধ্যাপক মো. আক্তার হোসেনের অনুপ্রেরণায় তাঁরা উদ্যোগটি বাস্তবায়নের সাহস পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক ও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছে উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।







