সারাদেশ
পঞ্চগড়ে জমিতে পাওয়া গেল মর্টার শেল

পরিত্যক্ত জমিতে কোদাল দিয়ে সুপারি বাগানে কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এ সময় মাটির একফুট নীচে কোদাল দিয়ে কোপ দিতেই শব্দ হয়।
পরে মাটি খুড়তেই তাদের কোদালে আঘাত লাগে একটি মর্টার শেলের। পরে মর্টার শেলটির মাটি ও মরিচা পরিস্কার করেন তারা।
বাসায় নিয়ে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে রাখা হয়। এক পর্যায়ে বস্তুটি কি তা জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেন জমির মালিক হোসেন আলী ও তার ছেলে সোহান।
সদর থানা পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মর্টাল শেলটি উদ্ধার করে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার পশ্চিম জালাসী এলাকায় ঘটে এই ঘটনা। মরিচা পড়ায় মর্টার শেলটি কত আগে তৈরি এর কোনো সঠিক ধারণা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জালাসি এলাকায় পাকিস্তানি সেনারা একাধিক মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। সে সময় বেশ কয়েকটি মর্টার শেল বিস্ফোরিত হয়। হয়তো সে সময় এটি বিস্ফোরিত হয়নি।
জমির মালিক হোসেন আলী বাসস’কে বলেন, আমার এই জমিটি অনেকদিন ধরে পড়েছিল। পরে এটি নালা করে সুপারি বাগান লাগানোর চিন্তা-ভাবনা শুরু করি।
আজকে কাজ করার সময় শ্রমিকদের কোদালে একটি লোহার টুকরা উঠে আসে। আমি তো এটা চিনি না আসলে কি। পরে তারা বাসায় নিয়ে যায়। পরে এটি বোমা জানতে পেরে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করি।
শ্রমিক জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা হোসেন আলী চাচার জমিতে সুপারির বাগান লাগানোর কাজ করছিলাম। এক পর্যায়ে আমি মাটিতে কোদাল দিয়ে কোপ দিতেই আওয়াজ হয়। পরে দেখতে পাই লোহার মত একটি দন্ড।
পরে এটিকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধুয়ে পরিষ্কার করার সময় একটু বারুদের গন্ধ বের হয়। এটি কি আসলে আমি জানি না, তবে শুনেছি বোমার মত।
সমর আলী নামে ষাটোর্ধ্ব এক শ্রমিক বলেন, আমরা চারজন মিলে জমিতে কাজ করছিলাম। তখন আমার ছেলের কোদালের কোপে একটি লৌহদণ্ড বের হয়ে আসে। আমি প্রথমেই এটাকে দেখে চিনতে পেরে বোমা হিসেবে তাদেরকে জানাই।
কারণ, আমাদের এলাকায় যুদ্ধের সময় এই একই জায়গায় তিনটি বোমা হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানি সেনারা। আমার তখন স্পষ্ট মনে আছে আমরা এই এলাকা দিয়ে তখন হাটাহাটি করতাম।
মর্টার শেল দেখতে আসা সাখাওয়াত উল্লাহ শাহীন বলেন, আমি দোকানে ছিলাম। পরে জানতে পারি আমাদের এলাকায় একটি জমিতে কাজ করার সময় মর্টার শেল পাওয়া গেছে। পুলিশ সদস্যরা এসে এটিকে ঘিরে রাখে। আমি আগে কখনো মর্টার শেল দেখিনি, এই প্রথম দেখলাম।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বাসস’কে বলেছেন, আসলে বস্তুটি মর্টার শেল সদৃশ। তবে আমরা এখনো বিস্তারিত বলতি পারছি না কবে এই মর্টার শেল তৈরি করা হয়েছে।
তবে, ধারণা করা হচ্ছে মর্টার শেলটি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার। আমরা এটিকে সংরক্ষণ করবো। পরে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের মাধ্যমে ধ্বংস করা হবে।







