জাতীয়
টিটন হত্যা ও জঙ্গি সংগঠন 'আরসা' সদস্য গ্রেফতার নিয়ে যা জানাল ডিবি

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও গরুর হাট ইজারা নিয়ে বিরোধ কাজ করেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে পৃথক অভিযানে জঙ্গি সংগঠন ‘আরসা’র চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ডিএমপি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন নিজেও অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে, এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং আসন্ন কোরবানির গরুর হাট নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। মামলার এজাহারে যাদের নাম রয়েছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। পাশাপাশি হাটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত কারও নির্দেশনায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, অতীতেও এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবারও যদি বিদেশে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হবে।
অন্যদিকে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠন ‘আরসা’ (Arakan Rohingya Salvation Army)–এর চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। এ প্রসঙ্গে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সংগঠনটির কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, “যে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ধরে জঙ্গি বানিয়ে নাটক সাজানোর কোনো সুযোগ নেই—পুলিশ শুধু অপরাধীদেরই আইনের আওতায় আনে।”
ডিবি জানিয়েছে, তারা বর্তমানে উভয় ঘটনার তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।







