ক্যাম্পাস

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে নিশ্চিত হোক শ্রমিকের প্রাপ্য মর্যাদা

মোহাম্মদ ফোরকান, কুবি

শেয়ারঃ

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে নিশ্চিত হোক শ্রমিকের প্রাপ্য মর্যাদা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক প্রতীক। দিনটি মে দিবস নামেও পরিচিত। প্রতি বছর ১ মে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়, যেখানে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর থাকে। এতে করে ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয় নানা ধরনের বর্জ্য। তবে ভোরের আলো ফোটার আগেই যখন অধিকাংশ শিক্ষার্থী ঘুমে, তখনই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজে নেমে পড়েন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিদিন ক্যাম্পাস ফিরে পায় তার পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ।


শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই নন, নৈশপ্রহরীরাও সারারাত জেগে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। আবাসিক হলের কর্মচারীরাও নিয়মিত হলের আঙিনা, ওয়াশরুম ও ডাইনিং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। তাদের নিরলস শ্রমেই আবাসিক শিক্ষার্থীরা পায় একটি স্বাস্থ্যকর ও অনুকূল পরিবেশ।


তবে প্রশ্ন থেকে যায়– শ্রমিক দিবসে যেভাবে শ্রমিকদের মূল্যায়ন করা হয়, সেই স্বীকৃতি কি সারা বছর জারি থাকে? যাদের নিরলস শ্রমে এই আধুনিক সমাজ এগিয়ে চলেছে, তাদের প্রকৃত মর্যাদা আসলে কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে এ প্রশ্নের উত্তর আজও স্পষ্ট নয়।


বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী খন্দকার মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, “আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস আমাদের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। অতীতে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ। শ্রমিক আন্দোলনের ফলে বহু ত্যাগের বিনিময়ে আজ ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিত হয়েছে, যার সুফল আমরা ভোগ করছি।”


আরেক কর্মচারী সুমন চক্রবর্তী বেতন বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “বাংলাদেশে বেতন বৈষম্য এখনও প্রকট। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মতো আমাদেরও পরিবার আছে, কিন্তু নতুন কর্মচারীরা মাত্র নয় হাজার টাকার মতো বেতন পান। বাজারে তো আলাদা কোনো মূল্য নেই– সবাই একই দামে পণ্য কিনতে বাধ্য। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকারের আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন নিয়ে আমাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।”


শ্রমিকদের এই অবদান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিদিনের কার্যক্রমকে সচল রাখে। তাই শুধু একটি দিন উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সকলের প্রত্যাশা।


সম্পর্কিত খবর