ক্যাম্পাস

চবিতে সিনিয়রকে আক্রমণ করল এক জুনিয়র শিক্ষার্থী

চবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

চবিতে সিনিয়রকে আক্রমণ করল এক জুনিয়র শিক্ষার্থী - খবরের থাম্বনেইল ফটো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাঁচি দিয়ে সিনিয়র এক শিক্ষার্থীকে আক্রমণ করেছে এক জুনিয়র শিক্ষার্থী। এ সময় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর হাত কেটে যায়। পরে তিনি চবি মেডিকেল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।


শুক্রবার (১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে এ ঘটনা ঘটেছে।


অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী নাম আবরার জাহিন লাবিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে মাদকসেবন অবস্থায় হলের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে।


আক্রমণের শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাহিন জামানের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ক্রয় করেন অভিযুক্ত আবরার জাহিন লাবিব। তবে ওই মোটরসাইকেলের কিছু টাকা বাকি ছিল। বকেয়া টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আজ মাহিন জামান অভিযুক্ত লাবিবের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন।


বকেয়া টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে অভিযুক্ত লাবিব কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে সাজ্জাদ হোসেনের ওপর আক্রমণ করেন। এ সময় নিজেকে রক্ষা করতে গেলে সাজ্জাদের হাতে কেটে যায়।


ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাৎক্ষণিকভাবে দুই পক্ষকে নিয়ে শহীদ ফরহাদ হলে আলোচনায় বসেন প্রক্টর, হল প্রভোস্ট ও নিরাপত্তা দপ্তরের সদস্যরা। এ সময় অভিযুক্ত লাবিব আত্মরক্ষার জন্য নিজের কাছে কাঁচি রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন।


এ বিষয়ে বাইক বিক্রয় করা মাহিন জামান জানান, আজ বাইকের বাকি টাকা পরিশোধের কথা ছিল। বিকেলে অভিযুক্তের বন্ধু সামির আমাকে ফোন করে হুমকি দেয় এবং জানায় গাড়ির কোনো কাগজপত্র নেই। পরে সে আমাকে টাকা ফেরত দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে বলে। বিকেলে তাদের কাছে আসলে তারা অশোভন আচরণ ও গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত লাবিব প্রথমে আমার গায়ে হাত তোলে এবং পরে কাঁচি বের করে আমার সঙ্গে থাকা সাজ্জাদকে আঘাত করে রক্তাক্ত করে।


প্রক্টরের সামনে আলোচনায় অভিযুক্ত আবরার জাহিন লাবিব বলেন, সিনিয়র ওই ভাইয়েরা আগে আমাকে আক্রমণ করেছে। আমি আত্মরক্ষার জন্য আগে থেকেই কাঁচি রেখেছিলাম। যাতে আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কাঁচি দিয়ে কিছু করতে পারি। কারণ বাঁচতে হবে। জান বাঁচানো ফরজ।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, মোটরসাইকেল বিক্রির বকেয়া টাকা নিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে এক জুনিয়র শিক্ষার্থী কাঁচি দিয়ে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে আঘাত করে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং আগামী রোববার সকাল ৯টায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত লাবিবকে আগামী দুদিন হলে না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর