আন্তর্জাতিক

কারাগার থেকে গৃহবন্দীতে অং সান সু চি

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

কারাগার থেকে গৃহবন্দীতে অং সান সু চি- খবরের থাম্বনেইল ফটো

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।


শুক্রবার (১ মে) সরকার তার সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমানোর ঘোষণা দেয়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর প্রকাশ করেছে।


তবে সু চির অবশিষ্ট সাজা তিনি গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।


২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরপর থেকে ৮০ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ী নেত্রীকে রাজধানী নাইপিদোর একটি কারাগারে বন্দি রাখা হয়।


তার বিরুদ্ধে উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক মামলায় দীর্ঘমেয়াদি সাজা দেওয়া হয়।


সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন মিন অং হ্লাইং। পরবর্তীতে তিনি দেশটির শাসন ক্ষমতায় থেকে ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই নির্বাচন ছিল না অবাধ ও নিরপেক্ষ।


রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়, সু চিকে “নির্ধারিত বাসস্থানে” স্থানান্তর করা হয়েছে এবং সেখানে তিনি সাজা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়।


তবে এই তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সু চির ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি বিবিসিকে বলেন, তার মা জীবিত আছেন কি না, সে সম্পর্কেও তিনি নিশ্চিত নন।


তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত ছবিটি ২০২২ সালের পুরোনো, তাই সেটিকে তিনি “অর্থহীন” বলে মনে করেন। তার ভাষায়, “যতক্ষণ না আমি মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারি বা কোনো স্বাধীন উৎস তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে, ততক্ষণ কিছুই বিশ্বাস করতে পারছি না।”


২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চির অবস্থা সম্পর্কে খুব কম তথ্যই পাওয়া গেছে। তার আইনজীবীরা দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি এবং পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।


সর্বশেষ তাকে ২০২১ সালের মে মাসে একটি আদালত শুনানিতে দেখা যায়। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে আনা একাধিক মামলায় মোট ৩৩ বছরের সাজা দেওয়া হলেও বিভিন্ন দফায় তা কমানো হয়েছে।


গৃহবন্দীতে স্থানান্তরের ঘোষণার পরও সু চির বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও প্রকৃত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


সম্পর্কিত খবর