আন্তর্জাতিক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র টানাপোড়েন নিরসনের ইঙ্গিত নেই

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার শর্ত নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের কোনো সমাধানের ইঙ্গিত মিলছে না।
তেহরান থেকে এএফপি জানায়, সোমবার ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাবের জবাবে নিজেদের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান।
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, অপরিশোধিত তেলের দাম চার শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায় এবং পরে সামান্য কমে আসে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে কয়েক বছর পর্যন্ত চলতে পারে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড়গুলোর একটি। তার মতে, হরমুজ প্রণালি এখন খুললেও বাজার স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস লাগবে, আর পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০২৭ সাল পর্যন্ত প্রভাব থাকতে পারে।
জাতিসংঘের ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেসের নির্বাহী পরিচালক জর্জ মোরেইরা দা সিলভা বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকটে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়, পাশাপাশি সারের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহও এই পথেই নির্ভরশীল। ফলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে, যার মধ্যে লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলা বন্ধের ইঙ্গিতও রয়েছে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের জনগণের বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, এটি কোনো ছাড় নয় বরং ইরানের ‘বৈধ অধিকার’।
এই অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপ থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত সংঘাত শেষ হবে না।
তিনি দাবি করেন, ইরানে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোও ধ্বংস করতে হবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান আলোচনার অংশ হিসেবে কিছু উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার প্রস্তাব দিয়েছে, বাকি অংশ তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের কথা বিবেচনায় ছিল।
তবে ইরান শর্ত দিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে সেই ইউরেনিয়াম ফেরত দিতে হবে।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও টোল আদায়ের ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের কিছু বন্দরে নজরদারি ও বাধা আরোপ করছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র বলেন, এখন থেকে ইরান আর সংযম দেখাবে না এবং কোনো হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানি জাহাজে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ ও ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।







