জাতীয়
আমিরাতে ঝুঁকির মুখে ২০ লাখ বাংলাদেশি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে উপসাগরীয় শ্রমবাজার ব্যাপক অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। এতে শুধু সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশির জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
বুধবার (১৩ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ শঙ্কার কথা জানায় রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)। “ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি: বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের ওপর প্রভাব ও করণীয়” শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যুদ্ধ চলতে থাকলে উপসাগরীয় শ্রমবাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। সংঘাতের কারণে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর আওতাধীন মেগা প্রকল্পগুলো—যেমন নিওম (৫০০ বিলিয়ন ডলার), রেড সি ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট এবং কিদ্দিয়া এন্টারটেইনমেন্ট সিটি—বাংলাদেশি নির্মাণ ও সেবা খাতের শ্রমিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হয়েছিল।
রামরু বলছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থার পতন, ব্যয় বৃদ্ধি বা সরাসরি অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে এসব প্রকল্প ব্যাহত হলে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থানের সুযোগগুলো হ্রাস পেতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই যুদ্ধে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ায় ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে আমিরাতে বসবাসরত প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশির জীবন ও জীবিকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এছাড়া চলাচলে ব্যাঘাতের কারণে অভিবাসী কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। নিয়োগ বিলম্ব বা বাতিল হলে এজেন্ট ও সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে অর্থ পরিশোধ নিয়ে বিরোধ দেখা দিচ্ছে, যা সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আরও তীব্র হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কিছু ঘাটতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, সংঘাত-সম্পর্কিত আঘাত, চাকরি হারানো বা জোরপূর্বক প্রত্যাবর্তনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সংকট প্রতিক্রিয়া তহবিল নেই। বাতিল হওয়া ফ্লাইট, আটকে পড়া অভিবাসী বা প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য কোনো রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ডও নেই।
রামরু আরও জানায়, কোনো সুস্পষ্ট ও জনসমক্ষে প্রচারিত সমন্বিত প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা নেই। ইরান বা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য সংঘাত-নির্দিষ্ট পুনঃএকত্রীকরণ ব্যবস্থা নেই। আয় হারানো কিন্তু দেশে ফিরতে না পারা শ্রমিকদের জন্য জরুরি খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা বা আশ্রয়ের প্রস্তুত ব্যবস্থাও অনুপস্থিত।
এছাড়া, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গৃহকর্মীরা হোয়াটসঅ্যাপ-গ্রুপভিত্তিক সংকটকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন। ফ্লাইট টিকিটের শর্তের কারণে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ঋণ বিতরণ কার্যত বন্ধ রয়েছে বলেও জানানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও রামরুর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী শ্রমিকদের একটি অংশ কর্মহীন হয়ে দেশে ফিরছেন।
তিনি জানান, আনুমানিক প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক আটকে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, তবে এ সংখ্যা চূড়ান্ত নয় এবং আরও বাড়তে পারে। অনেক দেশে নিরাপত্তাজনিত কারণে নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিয়োগে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তার কারণে কিছু অঞ্চলে কার্যক্রম সীমিত করে অন্য দেশে, বিশেষ করে তুরস্কে, ব্যবসা স্থানান্তর করছে। এতে শ্রমবাজারে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।






