আন্তর্জাতিক

লন্ডনে নাকবা দিবসের র‍্যালিতে আড়াই লাখ মানুষের অংশগ্রহণ

ডেস্ক

শেয়ারঃ

লন্ডনে নাকবা দিবসের র‍্যালিতে আড়াই লাখ মানুষের অংশগ্রহণ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লন্ডনে নাকবা দিবসের ৭৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল গণসমাবেশ ও মিছিলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।


শনিবার আয়োজিত এই কর্মসূচির পাশাপাশি একই সময়ে কট্টর ডানপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট টমি রবিনসনের নেতৃত্বে পৃথক একটি পাল্টা বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেট্রোপলিটন পুলিশ ৪ হাজারেরও বেশি সদস্য মোতায়েন করে, যা তারা “নজিরবিহীন গণ-নিরাপত্তা অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেছে।


বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভকে ঘিরে ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারদের কোন সমাবেশ থেকে আটক করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।


১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় জায়নবাদী মিলিশিয়াদের হাতে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুতি এবং ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতি বছর ‘নাকবা দিবস’ পালন করা হয়। ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন’সহ একাধিক সংগঠনের জোট এই কর্মসূচির আয়োজন করে।


অন্যদিকে টমি রবিনসনের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ বিক্ষোভকে আয়োজকরা “জনগণের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি সমাবেশ, যা ঐক্য, সচেতনতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ওপর জোর দেয়” বলে উল্লেখ করেন।


কঠোর পুলিশি নিরাপত্তা ও আলাদা রুট নির্ধারণের কারণে কেনসিংটন থেকে পল মল পর্যন্ত ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের ভিড় থাকলেও কট্টর ডানপন্থিদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। আয়োজকরা অংশগ্রহণকারীদের প্রতিপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের উত্তেজনায় না জড়ানোর নির্দেশ দেন।


সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ‘ইউর পার্টি’র এমপি জারা সুলতানা, স্বতন্ত্র এমপি ডায়ান অ্যাবট, এবং লেবার পার্টির এমপি জন ম্যাকডোনেল ও জেরেমি করবিন।


ম্যাকডোনেল বলেন, গাজায় চলমান পরিস্থিতি এবং ইউরোপে কট্টর ডানপন্থিদের উত্থানের প্রেক্ষাপটে নাকবা দিবসের এই মিছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যুক্তরাজ্য সরকারের ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং কার্যকর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার সমালোচনাও করেন।


ফিলিস্তিনি শরণার্থী অধিকারকর্মী হালা হানিনা বলেন, “নাকবা এখনো শেষ হয়নি। গাজা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং পশ্চিম তীরেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমাদের পরিবারগুলো এখনো প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে।”


দুই বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশকে কোনো সন্দেহ ছাড়াই তল্লাশির অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়। এছাড়া প্রথমবারের মতো গণ-নিরাপত্তা অভিযানে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও তা আনুষ্ঠানিক মিছিলের মূল রুটে নয়।


একই দিনে উত্তর লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির এফএ কাপ ফাইনালের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হয় পুলিশের।


মেট পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জেমস হারম্যান বলেন, ঘৃণাসূচক বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ বা চরমপন্থার প্রতি সমর্থন নির্দেশ করে—এমন স্লোগান ও ব্যানারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে “ইন্তিফাদা” স্লোগান সংক্রান্ত ঘটনায় একাধিক গ্রেফতার ও বিচার কার্যক্রম চলছে।


যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি “গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা” স্লোগানকে ঘিরে কঠোর অবস্থানের কথা জানানোর পর এটি ছিল প্রথম বড় ফিলিস্তিনপন্থি মিছিল। তিনি এই ধরনের বক্তব্যকে ইহুদি-বিরোধী সন্ত্রাসের আহ্বান হিসেবে উল্লেখ করেন।


তবে ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠনগুলো এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে অপরাধ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।


ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি ও আরব সম্প্রদায়ের ৫০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি এক যৌথ বিবৃতিতে বিক্ষোভের সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


লেবার পার্টির জন ম্যাকডোনেল বলেন, যুক্তরাজ্য সরকার ইসলামোফোবিয়াকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং ইহুদি-বিদ্বেষের মতোই ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


সম্পর্কিত খবর