তথ্যপ্রযুক্তি
এআই কীভাবে ইন্টারনেটকে চিরতরে বদলে দিচ্ছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরন পরিবর্তন করছে—বিশেষ করে অনলাইন সার্চ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ই-কমার্সে। ব্যবহারকারীরা এখন আগের চেয়ে বেশি জটিল, দীর্ঘ এবং কথোপকথনের মতো প্রশ্ন করছেন, যা ইন্টারনেটের তথ্য উপস্থাপনের কাঠামোকে নতুনভাবে গড়ে তুলছে।
গুগলের সার্চ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি স্টেইন বলেন, মানুষ এখন এমন প্রশ্ন করছে যার সরাসরি উত্তর সহজে অনলাইনে পাওয়া যায় না। এই পরিবর্তনের কারণে গুগল তাদের সার্চ সিস্টেমে বড় ধরনের আপগ্রেড আনছে, যেখানে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ভিজ্যুয়াল ও ইন্টারঅ্যাকটিভভাবে ফলাফল দেখানো হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীরা এখন শুধু কীওয়ার্ড নয়, বরং পূর্ণ বাক্যে বা কথোপকথনের মতো প্রশ্ন ব্যবহার করছেন। এসইও প্রতিষ্ঠান সেমরাশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ও কথোপকথনভিত্তিক সার্চের প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়ছে, যদিও এখনো বেশিরভাগ ব্যবহারকারী সংক্ষিপ্ত কীওয়ার্ড ব্যবহার করেন।
গুগল জানিয়েছে, ছবি বা স্ক্রিনের অংশ ব্যবহার করে সার্চ করার প্রবণতা বছরে প্রায় ৬০ শতাংশ হারে বাড়ছে। পাশাপাশি তাদের “এআই মোড” ব্যবহারের হারও দ্রুত বাড়ছে, যেখানে সার্চ আরও বেশি কথোপকথনভিত্তিক ও প্রসঙ্গনির্ভর হয়ে উঠছে।
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের তথ্য অনুসন্ধানের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে। মানুষ এখন তথ্য সারসংক্ষেপ, তুলনা এবং কনটেন্ট তৈরির জন্য বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি থেকে শুরু হওয়া অনুসন্ধান আবার গুগলে গিয়ে শেষ হচ্ছে, যা দুই প্ল্যাটফর্মের সমন্বিত ব্যবহারের প্রবণতা নির্দেশ করে।
এআই-এর প্রভাব শুধু সার্চেই সীমাবদ্ধ নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভার্চুয়াল ও এআই-নির্ভর ইনফ্লুয়েন্সার তৈরি হচ্ছে, যারা বাস্তব মানুষের মতো কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস এবং গুগল নতুন এআই মডেল, চ্যাট ফিচার এবং ভার্চুয়াল অ্যাভাটার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতাকে আরও বদলে দিচ্ছে।
অনলাইন শপিংয়েও বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এআই-চালিত টুল ব্যবহার করে রিটেইল ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক কয়েকশ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অ্যামাজনসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন এআই শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ও পণ্য তুলনা করার টুল তৈরি করছে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
গুগলও “ইউনিভার্সাল শপিং কার্ট” চালু করেছে, যেখানে বিভিন্ন অনলাইন দোকানের পণ্য একসঙ্গে যুক্ত করা যায়। এতে ব্যবহারকারীর কেনাকাটার অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও একীভূত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-নির্ভর সার্চ ফলাফল সরাসরি উত্তর দেওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে ক্লিক কমতে পারে, তবে যারা ক্লিক করছেন তারা তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর ব্যবহারকারী—যেমন কেনাকাটা বা বুকিং সম্পন্ন করা।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সার্চ, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন শপিং—সব ক্ষেত্রেই এআই ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতের ইন্টারনেটকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিতে পারে।







