জাতীয়
ইসলামী ব্যাংক উদ্ধারে নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত: জামায়াত আমির

ইসলামী ব্যাংক দখল বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাঁয়তারা জনগণ মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ইসলামী ব্যাংককে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইসলামী ব্যাংক উদ্ধারের জন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে প্রস্তুত। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে টানাটানির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। বুধবার রাজধানীর মিরপুরে একটি কনভেনশন সেন্টারে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক থেকে লাখো-কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আবারও ফ্যাসিবাদী কায়দায় ব্যাংক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। ইসলামী ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশ এভাবে চলতে পারে না। একদল পালিয়ে গেছে পাশের দেশে, বাকি দল যাবে কোথায়। বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে জামায়াত শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসাবে কাজ করবে। জামায়াতে ইসলামী কখনো গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে না।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজ কোনো দলের নয়, এরা বসন্তের কোকিল। দেশের ৩০০ জন সংসদ-সদস্য যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে চাঁদাবাজি দূর করা সম্ভব।
জামায়াত আমির বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে অনেক মানুষ এবার ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। বিশেষ করে ইরান, লেবানন, গাজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ঈদ কাটিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জ্বালানি খাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে দেশের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।
জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে গ্যাসের মজুত কমে যাচ্ছে; কিন্তু নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, গ্যাসের দাম ৭০০ টাকা বাড়িয়ে পরে ৫০ টাকা কমানো জাতির সঙ্গে তামাশার শামিল।
কাফরুল পশ্চিম থানা সেক্রেটারি এসএম রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম প্রমুখ।







