জাতীয়
জনগণকে স্বাবলম্বী করতে একটি স্বস্তিদায়ক বাজেট ঘোষণা করতে চায় সরকার : চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সাধারণ জনগণকে স্বাবলম্বী করতে একটি স্বস্তিদায়ক বাজেট ঘোষণা করতে চায় সরকার।
জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি শনিবার এসব কথা বলেন। এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও মো. আখতারুজ্জামান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন বাজেট অধিবেশন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সংসদে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে বাজেট পাস করা হবে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার অব্যাহত রাখা, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
চিফ হুইপ জানান, বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত বিষয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুসহ মৌসুমি রোগ মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। হাসপাতাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ, নতুন হাসপাতাল স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবহন টার্মিনাল নির্মাণ এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ খাত বিষয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে। বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করা হলেও ৬৬ শতাংশ গ্রাহকের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।
আইন ও বিচার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বিচার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে সরকার কাজ করছে। শিশু নির্যাতনসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচিত রামিসা হত্যা মামলাটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে তিনি জানান, মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আগামীকাল রোববার এর রায় ঘোষণা করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
চিফ হুইপ আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও সেবার বাস্তব অবস্থা নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সরকারি সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবিধান সংশোধন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের নজির রয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সময়োপযোগী পরিবর্তনের উদ্যোগ সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক পক্ষ গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে এবং সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায়ও ইতিবাচক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।







