ক্যাম্পাস

বদলি আদেশ ঝুলে আছে দেড় মাস, সনদ সংশোধনে দুর্ভোগ ইবি শিক্ষার্থীদের

ইবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

বদলি আদেশ ঝুলে আছে দেড় মাস, সনদ সংশোধনে দুর্ভোগ ইবি শিক্ষার্থীদের- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের সনদ সংশোধন কার্যক্রম গতিশীল করতে আইসিটি সেলের দুই কর্মকর্তাকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে বদলি করা হয়। তবে দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ওই কর্মকর্তারা নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। এতে শিক্ষার্থীদের সনদ সংশোধনসংক্রান্ত ভোগান্তি কমানোর উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গত ৬ মে আইসিটি সেলের সিস্টেম এনালিস্ট হাফিজুর রহমান এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামার মেহেদী হাসানকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে আদেশ জারির পর দেড় মাস পার হলেও তারা নতুন দপ্তরে যোগদান করেননি। ফলে শিক্ষার্থীদের সনদে থাকা বিভিন্ন ধরনের ভুল সংশোধনের কাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।


পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের সনদ সংশোধনের কাজ দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই আইসিটি সেলের দক্ষ এই দুই কর্মকর্তাকে সেখানে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা যোগদান না করায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।


তবে বদলিকৃত দুই কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান বলছেন, তাদের স্থানান্তর কার্যকর হলে আইসিটি সেলের গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট, আইডি কার্ড ম্যানেজমেন্ট, লাইব্রেরি অটোমেশন, ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল সাপোর্ট, ই-পেমেন্ট সিস্টেম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মেইল সার্ভার পরিচালনা, রেজাল্ট প্রসেসিং সাপোর্ট, সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ এবং ওয়েব পোর্টাল ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত রয়েছে। যেখানে আইসিটি সেলে ছয়জন কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও চারজন সিস্টেম এনালিস্ট থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে মাত্র একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও একজন সিস্টেম এনালিস্ট দিয়েই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেটের বিভিন্ন ধরনের ভুল সংশোধনের জন্য আমরা আইটিতে দক্ষ দুইজন কর্মকর্তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলাম। আমাদের চাহিদার আলোকে উপাচার্য স্যার তাদের বদলির আদেশ দেন। কিন্তু তারা এখনও পর্যন্ত আমাদের দপ্তরে যোগদান করেননি। ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।’


অন্যদিকে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি আগামীকাল উপাচার্য স্যারের সঙ্গে আলোচনা করবো। তাদেরকে আসলে কী ধরনের কাজে যুক্ত করা হবে এবং তারা সেই কাজ করতে পারবেন কি-না। এসব বিষয় বিবেচনা করেই একটা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’


বদলি আদেশ কার্যকরে দীর্ঘসূত্রতা এবং দুই দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় শিক্ষার্থীদের সনদ সংশোধন কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


সম্পর্কিত খবর