জাতীয়
তিস্তা নদীকে জীবন্ত করে উত্তরবঙ্গকে অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ার প্রত্যয় জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিস্তা নদীকে আর মরুভূমিতে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। তিস্তাকে জীবন্ত করে উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে।
বুধবার দুপুর ২টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তার পানির সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ জনপদ পুনরায় উর্বর হয়ে উঠবে। নদীভাঙনের কারণে বছরের পর বছর যে হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তাদের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “যে কোনো মূল্যে ইনশাআল্লাহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের জনগণের স্বার্থ আমাদের কাছে সর্বাগ্রে। জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো বাধা মেনে নেওয়া হবে না।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনতার কাছে সমর্থন কামনা করলে সভাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা হাত তুলে সমর্থন জানান।
জামায়াত আমির বুড়িমারী স্থলবন্দর প্রসঙ্গে বলেন, স্থলবন্দরটির আধুনিকায়ন করা হলে দেশের অর্থনীতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। একই সঙ্গে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। সড়কের বেহাল অবস্থার সমালোচনা করে বলেন, এ সড়ক দিয়ে রোগী পরিবহনসহ সাধারণ যাতায়াতে জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুগের পর যুগ এ অঞ্চলের মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়েছে। জনগণের আবেগকে পুঁজি করে পালাবদলের রাজনীতির মাধ্যমে অনেকেই ক্ষমতায় গিয়েছে, কিন্তু পাঁচ বছরের শাসনামলে একবারের জন্যও সাধারণ মানুষের দিকে ফিরে তাকায়নি।
তিনি বলেন, “আমরা বসন্তের কোকিল নই। বিপদের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাই না। সুখে-দুঃখে আমরা এই দেশের মাটিতেই থাকবো। এই দেশবাসীর মধ্যেই আমাদের ঠিকানা।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, উত্তরবঙ্গকে কৃষি ও শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানকার উৎপাদিত কৃষি ও শিল্পপণ্য শুধু দেশের চাহিদা পূরণই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির মাধ্যমেও জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।








