খেলাধুলা
নেদারল্যান্ডসের কোচের পদ ছাড়লেন কোম্যান

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের শেষ ৩২’র লড়াইয়ে মরক্কোর কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিশ্চিত হওয়ায় নেদারল্যান্ডসের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন রোনাল্ড কোম্যান।
টুর্নামেন্টে নেদারল্যান্ডস অনেক দূর পর্যন্ত যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু সোমবার মন্টিয়ারিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের শেষে ১-১’এ সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জিতে মরক্কো তাদের বিদায় নিশ্চিত করে।
রোমাঞ্চকর এই ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোডি গাকপোর গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ডাচরা। তবে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষদিকে ইসা ডিওপ গোল করে মরক্কোকে সমতায় ফেরান।
টাইব্রেকারে জাস্টিন ক্লুইভার্ট, কুইন্টেন টিম্বার এবং ক্রিসেনসিও সামারভিল নিজেদের শট থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।
৬৩ বছর বয়সী কোচ রোনাল্ড কোম্যান ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “গত রাতে আমি নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা সবাই এই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু আমরা সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারিনি। এর জন্য আমার চেয়ে বেশি হতাশ আর কেউ নয়। প্রধান কোচ হিসেবে শেষ পর্যন্ত এই দায়ভার আমারই।”
কোম্যান তার স্ত্রী বার্টিনার স্বাস্থ্যগত লড়াইয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। বার্টিনার স্তন ক্যানসার ধরা পড়েছে।
তিনি বলেন, “গত কয়েক বছর আমাকে আবারও উপলব্ধি করিয়েছে যে ফুটবলের চেয়েও জীবনে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফুটবলই ছিল আমার জীবন, কিন্তু সুস্বাস্থ্যের কোনো বিকল্প নেই। আপনি যাকে ভালোবাসেন, তিনি যখন কঠিন এক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যান, তখন জীবনের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে যায়।”
বার্সেলোনার সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ কোম্যান এর আগে ইংলিশ ক্লাব সাউদাম্পটন ও এভারটনেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এটি ছিল তার দ্বিতীয় মেয়াদ।
এদিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়দের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বর্ণবাদী বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিযয়েছে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে বলেছে, “উৎপত্তি বা পটভূমি নির্বিশেষে ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে। দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু প্রতিক্রিয়া দেখেছি, যেখানে খেলোয়াড়দের বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে।
এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। ফুটবলে, অনলাইনে কিংবা আমাদের সমাজে- কোথাও বর্ণবাদ ও বৈষম্যের কোনো স্থান নেই।”







