ক্যাম্পাস

রক্তদাতাদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'বাঁধনের' কেন্দ্রীয় কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভা ও দায়িত্ব হস্তান্তর

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

রক্তদাতাদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'বাঁধনের' কেন্দ্রীয় কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভা ও দায়িত্ব হস্তান্তর- খবরের থাম্বনেইল ফটো

'একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন'- এ স্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধন-এর কেন্দ্রীয় কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভা ও দায়িত্ব হস্তান্তর-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শুক্রবার (৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় বাঁধনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বিগত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন, ব্লাড অলিম্পিয়াডের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পেশ এবং বিগত কমিটি নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।


এসময় বাঁধনের নবনিযুক্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান ফাহিম বলেন,“বাঁধন শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি পরিবার। মাঝরাতে যখন ফোন আসে, তখন নিরলসভাবে মানুষের জীবন রক্ষা করাই বাঁধনের কাজ। সারা বাংলাদেশের মানুষ যদি রক্তদানের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে বাঁধন আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।”


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, “আজকের বাঁধনের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকেই বোঝা যায়, বাঁধন কতটা নিয়মতান্ত্রিক একটি সংগঠন। সর্বোচ্চ নিয়মানুবর্তিতা ও নিয়মতান্ত্রিকতার মাধ্যমে বাঁধনের সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মানবতার কল্যাণে কাজ করা সংগঠনগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমে, বাঁধন অন্যতম। ১৯৯৭ সালে যারা এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”


প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বাঁধনের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। আমার এবং সমাজের প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে বাঁধন যেভাবে রয়েছে, আমি মনে করি সে কারণেই বাঁধন যুগের পর যুগ টিকে থাকবে। আমি চাই, বাংলাদেশের সকল প্রান্তে বাঁধন ছড়িয়ে পড়ুক এবং দেশের সর্বত্র এমন সুন্দর মানসিকতার মানুষ বাঁধনের সঙ্গে যুক্ত হোক।”


আহমেদ রেজার জোনায়েদের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনিমুল হক, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক তোফায়েল তোফা। এছাড়া বাঁধনের রাবি, ঢাবি, জাবি, বুয়েট ও বাকৃবি জোনসহ মোট ১৬টি জোনের প্রায় ১,৮০০ জন রক্তদাতা ও রক্ত সংগ্রহকারী অংশ নেন।


উল্লেখ্য, বাঁধন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও স্বনামধন্য স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন। ১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে দেশের ৬১টি জেলায় ৯২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৬টি জোন, ১৪৮টি ইউনিট এবং ১৪টি পরিবারের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


সম্পর্কিত খবর