জাতীয়
বরিশাল সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা

ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার (১৩ জুলাই) প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে আসছেন। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। এর আগে ২০০৬ সালের ১৪ মে তিনি একবার বরিশাল সফর করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে গত কয়েকদিন ধরে বরিশাল নগরীতে চলছে আনন্দ মিছিল ও শোভাযাত্রা।
এরই মধ্যে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের নেতৃত্বে আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের নেতৃত্বে আরেকটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। একই সাথে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের পৃথক আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার প্রস্তুতি সভা করেছে বরিশাল উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
এ ছাড়াও বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি গতকাল বিকেলে মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনের নেতৃত্বে একটি আনন্দ মিছিল করে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মোহাম্মাদ শহীদউল্লাহ বলেন, আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে। তাঁর এ সফর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ও বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম তসলিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরিশালে কোনো জনসভা করবেন না। তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। তাই তাকে স্বাগত জানাতে সড়কের দুই পাশে ব্যাপক মানুষের সমাগম হবে।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ছাত্রদল সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সাংগঠনিক সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা তাঁর সামনে তুলে ধরা হবে। একই দিন এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে লক্ষ্যে আমাদের নেতাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও চলছে জোরেশোরে। নগরীজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজের পাশাপাশি সার্কিট হাউস ও জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।
সফরস্থল নিয়মিত পরিদর্শন করছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন এবং বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান।
এ বিষয়ে বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফর। বরিশালবাসী তাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, বরিশালের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প-ছয় লেন সড়ক, রেললাইন ও ভোলা-বরিশাল সেতুর বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। সাংগঠনিক সভায় আমরা আরও কিছু বিষয় তাঁর কাছে তুলে ধরব। এছাড়া তিনি সাগরদী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ করবেন। সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বাসসকে বলেন, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতেই প্রধানমন্ত্রী বরিশাল সফরে আসছেন। তাকে বরণ করে নিতে গৌরনদী থেকে বরিশাল নগর পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বাসসকে বলেন, ১৩ জুলাই (সোমবার) সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হবেন। সফরকালে তিনি গৌরনদীর বাটাজোড় এবং বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি-সংলগ্ন এলাকায় পৃথক দুটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দুপুরে সার্কিট হাউসে বিরতির পর বেলা ৩টায় বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে বড় কোনো ঘোষণা করবেন এমন প্রত্যাশা বরিশালবাসীর।







