ক্যাম্পাস
আন্দোলনের মুখে বড় অগ্রগতি: সমাধানের পথে শেকৃবি এএসভিএম শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সংকট

চার দফা দাবিতে টানা আন্দোলনের পর অবশেষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থীদের সংকট সমাধানের পথে বড় অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক ৪৭তম বিসিএসের সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য যাতায়াত ভাতা (টিএ) চালুর সিদ্ধান্ত এবং বিএলআরআইয়ের নিয়োগবিধিতে কম্বাইন্ড ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আশ্বাসে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার জট খুলতে শুরু করেছে।
গত ৫ জুলাই থেকে চার দফা দাবি আদায়ে এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে টানা আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পিএসসি ৪৭তম বিসিএসের সংশোধিত ফল প্রকাশ করে প্রফেশনাল ক্যাডারে আরও ১৪ জন প্রার্থীকে সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে, আগামী ৫২তম বিসিএস থেকে কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারীদের (বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি) জন্য প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় স্বতন্ত্র কোড অন্তর্ভুক্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে পিএসসি।
শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ইন্টার্ন ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের ভাতা এমবিবিএস চিকিৎসকদের ভাতার সমকক্ষ করা এবং টিএ-ডিএ চালু করা। এরই ধারাবাহিকতায়, আগামী ইন্টার্নশিপ ব্যাচ থেকে যাতায়াত ভাতা (টিএ) চালুর ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি অনুমোদিত হবে।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) নিয়োগবিধিতে কম্বাইন্ড ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির দাবিতে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন চৌধুরী টুকুর সঙ্গেও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সচিব, মহাপরিচালকসহ সব অংশীজনকে নিয়ে দ্রুততম সময়ে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।
আন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তাদের মূল লক্ষ্য যৌক্তিক দাবিগুলোর বাস্তবায়ন। বিএলআরআইয়ের নিয়োগবিধির বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হওয়ায় এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আওতাধীন দাবিগুলো, বিশেষ করে ইন্টার্নদের যাতায়াত ভাতা (টিএ) চালুর বিষয়টি কার্যকর হলেই তারা দ্রুত ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পুরো প্রক্রিয়ার সার্বিক তদারকি ও সমন্বয় করছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ।
তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে পিএসসির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আগামী ইন্টার্নশিপ ব্যাচ থেকে যাতায়াত ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অবশিষ্ট দাবিগুলো বাস্তবায়নেও আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- স্বতন্ত্র কোড বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় কম্বাইন্ড ডিগ্রি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বতন্ত্র কোড চালু করা, প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের (যেমন: বিএলআরআই) নিয়োগবিধিতে কম্বাইন্ড ডিগ্রির অধিকার নিশ্চিত করা, ইন্টার্ন ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের ভাতা এমবিবিএস ইন্টার্নদের ভাতার সমকক্ষ করা এবং যাতায়াত ভাতা (টিএ) চালু করা এবং ৪৭তম বিসিএসে প্রফেশনাল ক্যাডারে সুপারিশ না পাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।







